হৃদযন্ত্রে কোনও রকম জটিলতা তৈরি হলে, তা আচমকা ঘটে না; বরং শরীর অনেক আগে থেকেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দিতে শুরু করে। এই লক্ষণগুলি চিনতে পারলে দ্রুত চিকিৎসার সুযোগ মেলে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ৫টি লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
১. শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হওয়া: যদি শ্বাস নিতে কষ্ট হয় বা দম আটকে আসার মতো অনুভূতি হয়, তবে এটি হৃদরোগের একটি গুরুতর লক্ষণ হতে পারে। হৃদযন্ত্র দুর্বল হলে ফুসফুসে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়, যার ফলে এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
২. অস্বাভাবিক ঘাম ও হাঁপিয়ে যাওয়া: কোনও কারণ ছাড়াই যদি আপনার অতিরিক্ত ঘাম হয় বা সামান্য পরিশ্রমেও আপনি হাঁপিয়ে ওঠেন, তবে এটি চিন্তার কারণ। শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিকঠাক না হলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলি পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না, যার ফলে এমন ক্লান্তি বা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
৩. মাঝরাতে ঘুম ভেঙে ঘাম: যদি মাঝরাতে হঠাৎ আপনার ঘুম ভেঙে যায় এবং আপনি দেখেন যে দরদর করে ঘামছেন, তবে একে সাধারণ বিষয় ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। এটি হৃদযন্ত্রের সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ আগাম সংকেত হতে পারে।
৪. বুকে ব্যথা বা চাপ লাগার অনুভূতি: বুকে তীব্র ব্যথা বা ভারী চাপ লাগার মতো অনুভূতি হৃদরোগের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ। এমনটা অনুভব হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা আবশ্যক।
৫. মেয়েদের ক্ষেত্রে ভিন্ন লক্ষণ: পুরুষদের তুলনায় মেয়েদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের কিছু লক্ষণ আলাদা হতে পারে। বুকে ব্যথা, ঘাম হওয়া বা হাঁপ ধরা ছাড়াও মেয়েদের ক্ষেত্রে পেটে অস্বস্তি, বমি বমি ভাব, গলা বা পিঠে ব্যথার মতো অন্যান্য লক্ষণও দেখা দিতে পারে। তাই এই বিশেষ লক্ষণগুলি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।