হার্ট বা হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখার জন্য আমরা হাঁটা বা ব্যায়াম করি এবং খাবার নিয়ন্ত্রণে রাখি। তবে শুধু নিয়ন্ত্রণই যথেষ্ট নয়, জানতে হবে কোন কোন খাবার হার্টের জন্য ক্ষতিকর। সেই সব খাবার থেকে নিজেকে দূরে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
হার্টের জন্য ভালো নয় এমন ৯টি খাবারের কথা নিচে জেনে নিন:
১. চিংড়ি (Shrimp) * সমস্যা: চিংড়িতে ক্যালোরি এবং ফ্যাট কম থাকলেও এতে আছে প্রচুর পরিমাণ কোলেস্টেরল। * তুলনা: সাড়ে তিন আউন্স রান্না করা চিংড়িতে প্রায় ১৮৯ মিগ্রা কোলেস্টেরল পাওয়া যায়, যা হৃদরোগের কারণ হতে পারে।
২. কেক, পেস্ট্রি, পুডিং, আইসক্রিম (Sugary Desserts) * সমস্যা: এই খাবারগুলো চিনিযুক্ত, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। * ক্ষতিকর প্রভাব: মিষ্টিজাতীয় খাবার ব্লাড প্রেশার বাড়িয়ে দেয় এবং লিভারের তৎপরতা বাড়ায়, যা রক্তে ক্ষতিকর ফ্যাট (Fat) নিঃসরণ করে। এই দুটো কারণই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
৩. রেড মিট (Red Meat) * সমস্যা: খাসি, ভেড়া ও হাঁসের মাংসের (রেড মিট) ফ্যাট বা কোলেস্টেরল হৃদরোগের কারণ। * বৈজ্ঞানিক কারণ: গবেষণায় দেখা গেছে, রেড মিট ভেঙে কারনিটাইন নামে একটি যৌগ তৈরি হয়, যা ট্রিমাথাইলেমাইন এন অক্সাইড (TMAO) নিঃসরণ করে। এই TMAO আর্টারিতে ব্লক বা এথেরোসক্লেরোসিস সৃষ্টিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
৪. অতিরিক্ত ভাজা ও তৈলাক্ত খাবার (Deep-Fried Foods) * সমস্যা: খাবার যত ভাজা হয়, তার খাদ্যমান তত কমতে থাকে এবং তত যুক্ত হতে থাকে ক্ষতিকারক ফ্যাট (Trans-fats)। * প্রক্রিয়া: ডিপ ফ্রাইয়ের সময় খাবারের ভেতরের জল পুরোপুরি শুকিয়ে গিয়ে তার বদলে তেল ঢুকে যায়। এতে মাংস বা এই জাতীয় খাবারের স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।
৫. নারিকেল (Coconut) * সমস্যা: নারিকেল তেলের ৮৫ থেকে ৯০ ভাগই হলো স্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা হৃদরোগীদের জন্য ক্ষতিকর। * তথ্য: সিঙ্গাপুরের অধিবাসীরা খাবারে নারিকেল ও পাম তেল বেশি ব্যবহার করায় সেখানে হৃদরোগে মৃত্যুর হার হংকংয়ের তুলনায় তিনগুণ বেশি দেখা গেছে।
৬. ঘি-মাখন-ডালডা (Ghee, Butter, Dalda) * সমস্যা: এই খাবারগুলিতে আছে উচ্চমাত্রার স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও পালমিটিক এসিড, যা আর্টারি ব্লকের কারণ হতে পারে। * বিকল্প: কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, এর বদলে অলিভ অয়েল, সান ফ্লাওয়ার অয়েল বা মার্জারিন ব্যবহার করা যেতে পারে।
৭. ডিমের কুসুম (Egg Yolk) * সমস্যা: ডিমের কুসুমে আছে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল। একটি বড় আকারের মুরগির ডিমে প্রায় ১৮৬ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে, যার পুরোটাই কুসুমে থাকে। * পরামর্শ: হৃদরোগীদের দিনে ২০০ মিলিগ্রামের বেশি কোলেস্টেরল গ্রহণ করা উচিত নয়, তাই ডিমের সাদা অংশ খাওয়া গেলেও কুসুম এড়িয়ে চলা উত্তম।
৮. ফাস্টফুড (Fast Food) * সমস্যা: বার্গার, পিজা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ফ্রাইড চিকেন— এই ফাস্টফুডগুলি হৃদরোগের ঝুঁকি বহু গুণে বাড়িয়ে দেয়। * ঝুঁকি: আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, সপ্তাহে একবার ফাস্ট ফুড খেলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার প্রবণতা ২০ ভাগ বেশি। যারা সপ্তাহে চার বারের বেশি খায়, তাদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি ৮০ ভাগেরও বেশি।
৯. মাছের মাথা ও ডিম (Fish Head and Roe) * সমস্যা: মাছের মাথা ও ডিমে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের উচ্চ উৎস। * প্রভাব: এগুলো রক্তে লিপিড প্রোফাইল (Lipid Profile) বাড়িয়ে দেয়, যা হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত খারাপ।