প্রাথমিকের ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ বাতিল মামলা, হাইকোর্টে শুনানি শেষ, রায়দান স্থগিত

প্রাথমিকে কর্মরত ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষ হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। টানা ছ’মাস ধরে শুনানির পর বুধবার বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ রায়দান স্থগিত রেখেছে। গত ২৮ এপ্রিল এই বেঞ্চে মামলার শুনানি শুরু হয়েছিল।
শুনানিতে পর্ষদ ও মামলাকারীদের পালটা যুক্তি:
প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের দাবি:
- অন্তিম শুনানিতে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ দাবি করে, মামলাকারীরা দুর্নীতির অভিযোগের কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।
- পর্ষদ সওয়াল করে যে সিবিআই তদন্তেও দুর্নীতির প্রমাণ মেলেনি।
- পর্ষদের আইনজীবী সুবীর স্যানাল জানান, “বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, একজন প্রার্থী পরীক্ষার জন্য যে কোনো জেলা বেছে নিতে পারেন। ফলে বিভিন্ন জেলায় শেষ চাকরি প্রাপ্ত প্রার্থীদের নম্বর এক হবে না। পাশাপাশি হিন্দি, উর্দু মিডিয়াম রয়েছে, সেখানেও নম্বরের তফাৎ আলাদা আলাদা হবে স্বাভাবিক।”
মামলাকারীদের পক্ষে যুক্তি (আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য):
- বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “এটা একটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি। এস বসু রায় অ্যান্ড কোম্পানিকে ওএমআর শিট তৈরি করা, মূল্যায়ন করা, চূড়ান্ত প্যানেল তৈরি করা-সহ একাধিক কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।”
- তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, নিয়োগের জন্য সিলেকশন কমিটি তৈরি করা হয়েছিল কোন রুলে? রাজ্যের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তার কোনো নথি কমিশন দেখাতে পারেনি।
অন্যান্য আইনজীবীদের বক্তব্য:
- শিক্ষা দফতরের পক্ষে (আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়): তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন যে, ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রশিক্ষণহীনদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের অনুমতি ছিল এবং বলা হয়েছিল নিয়োগের পর প্রশিক্ষণ নেওয়া যাবে। তিনি সিবিআই তদন্তের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “সিবিআই একজন প্রার্থীকেও দেখাতে পেরেছে, যিনি টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন? দুর্নীতি দুর্নীতি করে সিবিআই-কে তদন্ত দেওয়া হলো। সিবিআই গত পাঁচ বছর ধরে তদন্ত শেষ করতে পারল না?”
- টেট উত্তীর্ণ শিক্ষকদের পক্ষে (সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মীনাক্ষা অরোরা): তিনি বলেন, “সিবিআই যে চার্জশিট দিয়েছে তাতে ৩২ হাজার চাকরিরত শিক্ষকের একজনের বিরুদ্ধেও কোনো অভিযোগ খুঁজে পায়নি। আট বছর চাকরি করার পর তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাঁদের চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত কঠোর এবং অযৌক্তিক। এনসিটিই রুল মেনেই এখানে চাকরিতে নিয়োগ করা হয়েছিল।”
- পর্ষদের আরেক আইনজীবী (অভ্রতোষ মজুমদার): তিনি জানান, “প্রত্যেক জেলায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের দফতরে প্যানেল প্রকাশ করা হয়েছিল। আর মামলার শুরুতে যে অভিযোগগুলি নিয়ে আসা হয়েছিল, সিবিআই-এর চতুর্থ সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশের পর সেইগুলি আর দাঁড়াচ্ছে না।”
প্রসঙ্গত, কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রাথমিকের ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেওয়ার পর প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ও কর্মরত শিক্ষকরা ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল। বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতি সুপ্রতীম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়ে নতুন করে ইন্টারভিউ নেওয়ার নির্দেশ দিলেও, পরে মামলাটি সুপ্রিম কোর্ট ঘুরে ফের হাইকোর্টে আসে।