দিল্লি বিস্ফোরণের পর হাই অ্যালার্ট, সুন্দরবনের জলপথ থেকে সড়ক-রেলপথে কড়া নজরদারি, সীমান্তে বাড়তি নিরাপত্তা

দিল্লির লালকেল্লার মেট্রো স্টেশনের কাছে বিস্ফোরণের পর দেশজুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, ২৬/১১ মুম্বই হামলার চক্রীরা যে জলপথ ব্যবহার করেছিল, তার পুনরাবৃত্তি আটকাতে সুন্দরবনের জলসীমা ও সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক নজরদারি শুরু করেছে প্রশাসন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সুন্দরবন এলাকা বাংলাদেশের সঙ্গে জলসীমা ভাগ করে নেওয়ায় এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

জলপথ ও উপকূলে কড়া নিরাপত্তা:

সুন্দরবন পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল থানা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবীদের উপর নজরদারি চালাচ্ছে। পুলিশকর্মীরা ট্রলারগুলিতে উঠে চেকিং এবং তল্লাশি চালাচ্ছেন। মৎস্যজীবীদের পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৎস্যজীবী সুদর্শন দাস জানান, গভীর সমুদ্রে যাওয়া ট্রলার ও কর্মীদের পরিচয়পত্র পুলিশ কড়াভাবে পরীক্ষা করছে এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে, নৌবাহিনী হোভারক্রাফ্টের মাধ্যমে ভারতীয় জলসীমায় টহল দিচ্ছে। সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও জানিয়েছেন, জলপথে মৎস্যজীবীদের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সড়ক ও রেলপথে তল্লাশি:

জলপথের পাশাপাশি সুন্দরবন পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে ১‌১৭ নম্বর জাতীয় সড়কেও নাকা চেকিং চলছে। প্রতিটি যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন জেলা পুলিশের কর্মীরা।

অন্যদিকে, রেল পুলিশের পক্ষ থেকেও শিয়ালদা দক্ষিণ শাখার ট্রেনে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। কাকদ্বীপ, নামখানা, ডায়মন্ডহারবার, বারুইপুর-সহ একাধিক স্টেশনে যাত্রীদের ব্যাগ ও পরিচয়পত্র তল্লাশি করা হচ্ছে। এক রেলযাত্রী রতন মাইতি জানান, রেল পুলিশ কর্মীরা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন এবং ব্যাগপত্র পরীক্ষা করছেন।

পর্যটন কেন্দ্রে সতর্কতা:

শীতের মরশুম হওয়ায় সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্রগুলিতেও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বকখালি, মৌসুনি দ্বীপ, হেনরি আইল্যান্ড, গঙ্গাসাগর, সুন্দরবন এবং ডায়মন্ডহারবার-সহ সমস্ত জনবহুল পর্যটন কেন্দ্রে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও নিশ্চিত করেছেন যে দিল্লির ঘটনার পর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে এবং কড়া নিরাপত্তার চাদরে গোটা এলাকা মুড়ে ফেলা হয়েছে।