ভূমিকম্পের মতো শব্দ! চিনের Hongqi সেতু ভেঙে পড়ায় তোলপাড়, নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সেদেশের নাগরিকেরা

বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ করে নির্মাণ হয়েছিল। কিন্তু উদ্বোধনের কয়েক মাসের মধ্যেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল চিনের তিব্বতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডকে সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। দুই খাড়া পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর উপর তৈরি Hongqi সেতুর একাংশ ধসে পড়ায় চারদিক ধুলোয় ঢেকে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভয়াবহ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে।
চিনের সিচুয়ান প্রদেশের মেরক্যাংয়ে জাতীয় সড়ক G317-এর অংশ ছিল ৭৫৮ মিটার দীর্ঘ Hongqi Bridge। চলতি বছরের শুরুতেই এর নির্মাণকার্য সম্পূর্ণ হয় এবং সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার বিকেল ৪টে নাগাদ সেতুটির একাংশ তীব্র শব্দে ভেঙে পড়ে।
প্রাণহানি এড়ানো গেল যেভাবে
বিপর্যয়ের আগে স্থানীয়রা পাহাড়ের গায়ে ফাটল এবং রাস্তার নড়বড়ে অবস্থা বুঝতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গেই সেতুর উপর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই সতর্ক পদক্ষেপের ফলেই এত বড় বিপর্যয় ঘটলেও, প্রাণহানির কোনও খবর নেই।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনার জন্য পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশই দায়ী। তারা জানিয়েছে, ওই এলাকার মাটি নড়বড়ে এবং জায়গায় জায়গায় ধস নামছে, যার ফলে সেতুটি ভার ধরে রাখতে পারেনি।
নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন
গত অগাস্ট মাসে চিংহাই প্রদেশে একটি রেল সেতু ভেঙে ১২ জন মারা যাওয়ার ঘটনার পর, এত বড় একটি সেতুর একাংশ ভেঙে পড়ায় চিনা নাগরিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে প্রশ্ন উঠেছে: নির্মাণে খামতি থাকলে, তা জানানো জরুরি ছিল; আর এত বড় সেতু নির্মাণের আগে ভৌগোলিক পরিবেশ সঠিকভাবে খতিয়ে দেখা হল না কেন?
সংবাদ সংস্থা Bakram Emergency Management Bureau জানিয়েছে, এই সেতু বিপর্যয় নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনিক আধিকারিক এবং সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন আছে। যে নির্মাণ সংস্থা (Sichuan Road and Bridge Group) সেতুটি তৈরি করেছিল, তারা ভেঙে পড়া অংশের পুনর্নির্মাণ বা পুনরায় সেতুটি চালু করা নিয়ে এখনও কোনও তথ্য দেয়নি।