লাশ চেনা দুঃসাধ্য! লালকেল্লা বিস্ফোরণে ট্যাটু আর ছেঁড়া T-Shirt দেখে প্রিয়জনের শেষ বিদায় পরিবারের

দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর সুভাষ মার্গে মুহূর্তে নেমে আসা আতঙ্ক বদলে দিয়েছে বহু মানুষের জীবন। সোমবার সন্ধ্যায় হুন্ডাই আই২০ (Hyundai i20) গাড়িতে হওয়া এই ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছিন্নভিন্ন দেহের সারি মর্গে পৌঁছেছিল, যেখানে প্রিয়জনদের চেনার উপায় ছিল না। এই মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে আহতদের চিৎকার, আর মর্গে নিথর দেহ শনাক্ত করার এক হৃদয়বিদারক পদ্ধতি সামনে এসেছে।

মৃত্যুর নির্মম প্রমাণের মাঝে পরিবারগুলোর একমাত্র ভরসা ছিল ছোট ছোট ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্ন—কারও হাতের ট্যাটু, কারও বা পরনে থাকা পরিচিত টি-শার্ট।

ট্যাটুতে অমরের শেষ স্মৃতি

৩৪ বছরের ওষুধ ব্যবসায়ী অমর কাটারিয়া চাঁদনি চকের দোকান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। বিস্ফোরণে তাঁর দেহ এমনভাবে পুড়ে গিয়েছিল যে, শনাক্ত করা অসম্ভব ছিল। কিন্তু তাঁর দুই হাতে খোদাই করা ট্যাটু— ‘Mom my first love’ এবং ‘Dad my strength’—শেষ পর্যন্ত তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে।

অমরের বাবা সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে তারা হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন। “মর্গে গিয়ে হাতে থাকা ট্যাটু, চেইন-আংটি আর কানের দুল দেখে ওকে চিনতে পারি,” তিনি বলেন। অমরের পরিবারে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ও তিন বছরের এক সন্তান।

টি-শার্টের টুকরোয় জুম্মানের পরিচয়

অন্যদিকে, প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ জুম্মানের খোঁজ চলছিল। শেষে মর্গে গিয়ে এক দেহের উপর থেকে চাদর সরানোর পর পরিবারের লোকজন তাঁকে চিনতে পারেন। তাঁর কাকা মহম্মদ ইদরিস জানান, “ওর পা ছিল না, শরীরও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কিন্তু ওই টি-শার্ট দেখেই আমরা বুঝে যাই এটাই জুম্মান।” শাস্ত্রী পার্কের বাসিন্দা জুম্মান ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য। তিনি রেখে গেলেন প্রতিবন্ধী স্ত্রী ও সন্তানদের।

তদন্তে কড়া পদক্ষেপ

দিল্লি পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, লালকেল্লার কাছে সুভাষ মার্গ মোড়ে ধীর গতির হুন্ডাই আই২০ গাড়িতে বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে ১৩ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ঘটনার তদন্তে একাধিক সংস্থা নেমে পড়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, সব ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ UAPA, Explosives Act-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আশ্বাস দিয়েছেন, দোষীদের কোনওভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না এবং জড়িতদের কঠোরতম শাস্তির মুখে পড়তে হবে।