উচ্ছেদ ঠেকাতে পাথর ছোড়ার নিদান! RPF-কে দেখে আইন হাতে তুলে নিতে বললেন তৃণমূল বিধায়ক

হুগলি স্টেশন সংলগ্ন রেললাইনের ধারের প্রায় ২০০টি পরিবারের মাথায় এখন আকাশ ভেঙে পড়েছে। ঘর ছাড়ার নোটিশ হাতে পেয়ে উদ্বেগ আর আতঙ্কে ঘুম উড়েছে কোদালিয়া ২ নম্বর পঞ্চায়েতের দেশবন্ধু পল্লির বাসিন্দাদের। তাদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে এবার আইন হাতে তুলে নেওয়ার বিতর্কিত বার্তা দিলেন চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার।

👉 RPF-এর বিরুদ্ধে ‘দাদাগিরি’র অভিযোগ: মঙ্গলবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করে বিধায়ক অসিত মজুমদার স্পষ্ট জানান, রাজ্য পুলিশকে ছাড়া যদি আরপিএফ (RPF) জওয়ানরা উচ্ছেদ অভিযানে আসে, তবে রেললাইনের পাথর নিয়ে প্রতিরোধ করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, আরপিএফ ‘দাদাগিরি’ করছে এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রেলকেই করতে হবে।

বিধায়কের সোজাসাপটা হুঁশিয়ারি: “সবাই মনে রাখবেন রেললাইনে পাথর আছে। রাজ্য পুলিশ ছাড়া আরপিএফ দাদাগিরি করতে এলে রেললাইনের পাথর হাতে তুলে নেবেন এলাকার বাসিন্দারা। রাজ্য পুলিশকে সঙ্গে না আনলে আরপিএফের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ হবে। মানুষ দরকারে আইন হাতে তুলে নেবে।”

👉 বিতর্কের কেন্দ্রে বিধায়ক: অসিত মজুমদার এর আগেও তাঁর মন্তব্যের জন্য বিতর্কে জড়িয়েছেন। এবার সরাসরি আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে RPF-এর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে প্রতিরোধ গড়ার বার্তা দেওয়ায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, “বিজেপি ধান্দাবাজি করে গরিব মানুষকে মেরে পুঁজিপতিদের বাঁচাচ্ছে। গরিব মানুষের পাশে আমরা সবসময় আছি।”

👉 ২০০ পরিবারের জীবন-সংকট: প্রায় ৩০ বছর আগে পূর্ববঙ্গ থেকে আসা এই ২০০টি পরিবার হাওড়া-ব্যান্ডেল লাইনের পশ্চিমে বসতি স্থাপন করে। বাঁশ ও দরমার অস্থায়ী ঘর থেকে অনেকের এখন পাকা বাড়ি হয়ে গেছে। অধিকাংশ পরিবার দিন মজুরি করে পেট চালান। রেলের তরফ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে জায়গা খালি করে দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১৪ নভেম্বর। এত কম সময়ের মধ্যে এই পরিবারগুলি কোথায় যাবেন, তা নিয়েই চরম দুশ্চিন্তা।