মৃত্যুর পরেও শান্তি নেই! বিস্ফোরক কাণ্ডে নিহত মহসিনের শেষকৃত্য নিয়ে তুলকালাম, বিতর্কের কেন্দ্রে স্ত্রী সুলতানা

সোমবার দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণে (Delhi Blast) প্রাণ হারান উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মীরাটের বাসিন্দা মহসিন। পেশায় ই-রিকশা চালক মহসিন প্রায় দু’বছর আগে স্ত্রী সুলতানা এবং দুই সন্তানকে নিয়ে কাজের সন্ধানে রাজধানী দিল্লিতে চলে এসেছিলেন। কিন্তু সেই শহরই তাঁর জীবন কেড়ে নিল। এদিকে, মর্মান্তিক মৃত্যুর পর মহসিনের মৃতদেহের শেষকৃত্য নিয়ে পরিবারে শুরু হয় চরম বিবাদ।
👉 মীরাটে তুলকালাম: মঙ্গলবার মহসিনের মরদেহ যখন মীরাটে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে পৌঁছায়, তখনই শোকের আবহের মধ্যে শুরু হয় তীব্র পারিবারিক বিতর্ক। মহসিনের মা ও ভাই-বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা দাবি করেন, মহসিনের জন্মস্থান মীরাটেই তাঁকে শেষ বিদায় জানানো হবে। কিন্তু তাঁর স্ত্রী সুলতানা নিজের দাবিতে অনড় থাকেন। তাঁর বক্তব্য, মহসিনের কবর হবে দিল্লিতে—যেখানে তিনি কাজ করতেন, রোজগার করতেন এবং থাকতেন।
সুলতানার এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। প্রতিবেশীরাও তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু সুলতানা নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। শেষ পর্যন্ত পরিবারের অমতেই সুলতানা তাঁর স্বামীর মরদেহ নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন।
👉 বিস্ফোরণের সূত্রপাত ও তদন্ত: সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে বিস্ফোরকভর্তি একটি হুন্ডাই আই২০ গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। এই ভয়াবহ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১২ জন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মহসিনও ছিলেন।
তদন্তে জানা গেছে, গাড়িটি ছিল উমর নামের এক চিকিৎসকের। গোয়েন্দাদের অনুমান, এটি কোনো আত্মঘাতী হামলা নয়। বরং, জঙ্গি সন্দেহে তিন চিকিৎসককে গ্রেফতারের পর আতঙ্কে উমর घাবড়ে গিয়ে ভুলবশত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে থাকতে পারেন। বিস্ফোরণে উমরেরও মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।