মুসলিম, খ্রিস্টানরা কি RSS-এ যোগ দিতে পারবেন?মোহন ভাগবত ‘হ্যাঁ’ বললেও জুড়ে দিলেন চরম ‘শর্ত’!

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত রবিবার এক প্রশ্ন-উত্তর পর্বে ভিন ধর্মের মানুষের সঙ্ঘে যোগদান নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। সঙ্ঘ প্রধান স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে মুসলিম ও খ্রিস্টান সহ সমস্ত ধর্মের মানুষই RSS-এ যোগ দিতে পারবেন, তবে সেক্ষেত্রে একটি বিশেষ শর্ত মানা আবশ্যিক।

 

RSS-এ যোগদানের সেই বিশেষ শর্ত

 

মোহন ভাগবত জানিয়েছেন, সঙ্ঘে যোগদানের মূল শর্ত হল—তাঁকে অবশ্যই ‘একত্রিত হিন্দু সোসাইটির সদস্য’ হতে হবে।

মুসলিম বা খ্রিস্টানদের RSS করার সুযোগ দেওয়া হবে কিনা, এই প্রশ্নের জবাবে মোহন ভাগবত প্রথমে বলেন, সঙ্ঘে কোনও ব্রাহ্মণ, অন্য জাতের মানুষ, মুসলিম বা খ্রিস্টানের সরাসরি যোগদানের অনুমতি নেই—শুধুমাত্র হিন্দুরাই সঙ্ঘে যোগ দিতে পারবেন।

এরপরই নিজের মন্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে সঙ্ঘ প্রধান বলেন:

“সমস্ত বিশ্বাসের, ধর্মের মানুষই যোগ দিতে পারেন, যদি তারা ভারত মাতার সন্তান হন। ফলে মুসলিম, খ্রিস্টান বা কোনও ধর্মীয় বিশ্বাসের মানুষকে RSS-এ যোগ দিতে হলে নিজ নিজ বিশ্বাসকে দূরে সরিয়ে রেখে আসতে হবে। আপনাদের বিশেষত্বকে আমরা স্বাগত জানাব, তবে সঙ্ঘে প্রবেশ করলে আপনাকে ভারত মাতার সন্তান হিসেবে আসতে হবে। আপনাকে হতে হবে হিন্দু সোসাইটির সদস্য।”

তিনি আরও যোগ করেন, সঙ্ঘের দৈনন্দিন শাখা কর্মসূচিতে সদস্যদের ধর্ম নিয়ে কোনও প্রশ্ন করা হয় না। “মুসলিমরাও সঙ্ঘে আসেন। খ্রিস্টানরাও আসেন। তবে আমরা তাদের গুনি না। জিজ্ঞাসাও করি না তারা কারা। আমরা সকলেই ভারত মাতার সন্তান। এভাবেই সঙ্ঘ কাজ করে।”

 

রেজিস্ট্রেশন বিতর্কে কংগ্রেসকে পাল্টা জবাব

 

এদিকে, কংগ্রেস নেতা প্রিয়ঙ্ক খাড়গে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে দেশের জন্য কাজ করার দাবি সত্ত্বেও কেন RSS রেজিস্টার্ড সংগঠন নয়? এই প্রসঙ্গেও রবিবার কড়া জবাব দেন মোহন ভাগবত।

  • ঐতিহাসিক কারণ: সঙ্ঘ প্রধান বলেন, “১৯২৫ সালে সঙ্ঘের পথচলা শুরু হয়েছিল। তখন ভারত স্বাধীনও হয়নি। তখন কি তবে ব্রিটিশ সরকারের আওতায় রেজিস্ট্রেশন করাতাম? আপনি কী বলতে চাইছেন, ব্রিটিশ সরকারের আওতায় সঙ্ঘের রেজিস্ট্রেশন করানো উচিত ছিল?”
  • আইনের ব্যাখ্যা: তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক ছিল না। দেশের আইন রেজিস্ট্রেশন ছাড়াও সংগঠন চিহ্নিত করত।
  • কর এবং নিষেধাজ্ঞা: ভাগবত আরও বলেন, “আমরা কর দিই। ৩ বার এ দেশেই নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছি। আদালতের হস্তক্ষেপে প্রতিবারই নিষেধাজ্ঞা উঠেছে। ফলে আমাদের রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন পড়ে না।”
  • চূড়ান্ত মন্তব্য: এরপরই তাঁর সংযোজন, “অনেক কিছুরই রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন পড়ে না। এমনকী হিন্দু ধর্মও রেজিস্টার্ড নয়।”