‘কেন্দ্র তৃণমূলকে সরাতে আগ্রহী নয়’! অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্যে তুমুল বিতর্ক, তৃণমূলে যোগ দেওয়ার আহ্বান স্পিকারের

কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এবং সদ্য রাজনীতিতে যোগ দেওয়া বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে ঝড় উঠেছে। তাঁর মন্তব্যে কেবল রাজনৈতিক মহলেই নয়, বিজেপির অন্দরেও আদি-নব্য দ্বন্দ্ব ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

বিজেপি সাংসদের ক্ষোভ: একটি সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, তিনি যে প্রধান কারণে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, অর্থাৎ “তৃণমূলকে সরিয়ে বাংলায় পরিবর্তনের সরকার আনা”, তা পূরণ হয়নি।

“দুঃখের বিষয়, কেন্দ্রের মনোভাব থেকে বুঝেছি তারা তৃণমূলকে সরাতে আগ্রহী নয়। বাংলার মন বোঝা যায় না দিল্লি থেকে। হিন্দি বলয়ের নেতাদের দিয়ে বাংলায় রাজনীতি করা যায় না,” বলেন প্রাক্তন বিচারপতি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে তিনি বাংলার উন্নয়ন চান, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার কোনোভাবেই তৃণমূলকে সরাতে উদ্যোগী নয়।

স্পিকারের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ: অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পরই তৃণমূল নেতা ও বিধানসভা স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে পাল্টা আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। রবিবার বারুইপুরের দলীয় সভায় এসে স্পিকার বলেন,

“অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের তৃণমূলে যোগ দেওয়া উচিত। উনি যদি সত্যিই পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন চান, তবে বিজেপিতে থেকে তা দেখা সম্ভব নয়। উন্নয়নের মুখ দেখতে হলে তাঁকে তৃণমূলেই আসতে হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে বিচারপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বিচারপতি থাকাকালীন তাঁর নির্দেশেই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি ও সিবিআই তদন্ত শুরু করে, যা তৃণমূল সরকারের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই বক্তব্য আসলে বাংলায় বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং ‘দিল্লি-নির্ভর রাজনীতি’র প্রতি এক সরাসরি বার্তা।