দেশজুড়ে ধারাবাহিক হামলার ছক ভেস্তে দিল গুজরাত ATS! আমদাবাদে অস্ত্র-সহ ৩ সন্দেহভাজন গ্রেফতার, ১ বছর ধরে ছিল নজরদারি

গুজরাত থেকে জম্মু ও কাশ্মীর—দেশের দুই প্রান্তেই বড়সড় নাশকতার চক্রান্ত এবং জঙ্গি নেটওয়ার্কের সক্রিয়তা নিয়ে চরম সতর্কতা জারি হয়েছে। রবিবার গুজরাত অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড (Gujarat ATS) অস্ত্র-সহ তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে দেশজুড়ে হামলার একটি বড় চক্রান্ত ভেস্তে দিয়েছে। অন্যদিকে, গোয়েন্দা রিপোর্টে জানা যাচ্ছে, পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি ফের জম্মু ও কাশ্মীরে সমন্বিত হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
১. গুজরাতে নাশকতার ছক ভেস্তে দিল ATS
গ্রেফতার: রবিবার আমদাবাদ (Ahmedabad) থেকে অস্ত্র-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে গুজরাত এটিএস। ধৃতদের মধ্যে দু’জন উত্তরপ্রদেশের ও তৃতীয়জন অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা।
চক্রান্ত: গুজরাত এটিএস বিবৃতিতে জানিয়েছে, এরা অস্ত্র সরবরাহের সময় ধরা পড়ে এবং এদের লক্ষ্য ছিল দেশজুড়ে একাধিক জঙ্গি হামলা চালানো। গোয়েন্দারা গত এক বছর ধরে এদের গতিবিধির উপর নজর রাখছিল। এখনও তল্লাশি চলছে।
২. কাশ্মীর সীমান্তে ফের সক্রিয় লস্কর-জইশ
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গি কার্যকলাপ চলছে। ছয় মাস আগে ভারতীয় বাহিনী পহেলগামে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিলেও, সীমান্ত পেরিয়ে ফের পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।
পাক মদত: রিপোর্ট বলছে, লস্কর-ই-তইবা (LeT) এবং জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) ফের সমন্বিত হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পুনর্গঠনের চেষ্টায় সক্রিয় সমর্থন রয়েছে পাকিস্তানের সেনা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI) এবং বিশেষ বাহিনী এসএসজি (SSG)-র।
নতুন কৌশল: সেপ্টেম্বর থেকে সীমান্ত এলাকায় ড্রোনের তৎপরতা বেড়েছে। এই ড্রোনগুলির মাধ্যমে পাহাড়ি অঞ্চলের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে, যেখানে সম্ভাব্য আত্মঘাতী হামলা বা অস্ত্রবাহী ড্রোন হামলার পরিকল্পনা থাকতে পারে। গোয়েন্দাদের ধারণা, লস্করের কুখ্যাত জঙ্গি শমশের এই ড্রোন অপারেশনের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
BAT সতর্কতা: পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) ফের সক্রিয় হয়েছে পাকিস্তানের বর্ডার অ্যাকশন টিম (BAT), যা প্রাক্তন এসএসজি কমান্ডো ও প্রশিক্ষিত জঙ্গিদের নিয়ে গঠিত। ভারতীয় নিরাপত্তা সূত্র বলছে, তাদের এই পুনর্বিন্যাসের মানে হলো আগামী মাসগুলোতে সীমান্তে হঠাৎ হামলা বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা বাড়বে।
গোয়েন্দারা বলছেন, পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, গুজরাত থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত দুই প্রান্তের এই ঘটনাগুলি ভারতে নতুন করে বিপদের ইঙ্গিত স্পষ্ট করছে।