পলাতক মেহুল চোকসিকে প্রত্যর্পণের অনুমতি বেলজিয়ামের! তার আগেই ৪৬ কোটি টাকার সম্পত্তি নিলামে তুলছে মুম্বই আদালত

পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি)–এর প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি মামলার মূল অভিযুক্ত মেহুল চোকসির (Mehul Choksi) সঙ্গে যুক্ত ১৩টি সম্পত্তি নিলামে তোলার নির্দেশ দিল মুম্বইয়ের একটি বিশেষ আদালত। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থ মামলার চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ আদালতের নামে স্থায়ী আমানত (Fixed Deposit) হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে।

আদালতের ৪ নভেম্বরের নির্দেশ অনুযায়ী, গীতাঞ্জলি জেমস লিমিটেড (Gitanjali Gems Ltd)-এর এই সম্পত্তিগুলির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৬ কোটি টাকা (২০১৮ সালের মূল্যায়ন অনুযায়ী)।

কোন কোন সম্পত্তি নিলামে উঠছে?
নিলামের তালিকায় রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বাণিজ্যিক ও আবাসিক সম্পত্তি:

বোরিভলিতে চারটি ফ্ল্যাট (মূল্য প্রায় ২.৬ কোটি)।

বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্সের ভারত ডায়মন্ড বোরস ভবনের একটি বাণিজ্যিক ইউনিট এবং ১৪টি গাড়ি রাখার পার্কিং স্পেস (মূল্য প্রায় ১৯.৭ কোটি)।

গুরগাঁও ইস্টে ছয়টি শিল্প গালা এবং উদ্যোগ নগরে আরও একটি গালা।

জয়পুরের কারখানায় থাকা রূপার ইট, আধা-মূল্যবান পাথর এবং মেশিন।

নিলামের অর্থ বাজেয়াপ্ত হবে রায়ের পর
আদালত নির্দেশে স্পষ্ট করেছে, আপাতত শুধুমাত্র ‘unsecured assets’ (যেগুলি কোনো ‘secured creditor’ দাবি করেনি) নিলামে তোলা যাবে। নিলামের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর:

“গীতাঞ্জলি জেমস ও সংশ্লিষ্ট লিকুইডেটররা নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থ আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কে বিশেষ আদালতের নামে স্থায়ী আমানত হিসাবে জমা রাখবেন। নিলামের খরচ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অর্থ আদালতের পক্ষে এফডি আকারে সংরক্ষিত থাকবে।” — মুম্বই বিশেষ আদালত

সম্পত্তির চূড়ান্ত মালিকানা ও বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কেবল মামলার রায় ঘোষণার পরেই।

চলছে প্রত্যর্পণের আইনি লড়াই
উল্লেখ্য, মেহুল চোকসি ইতিমধ্যেই ‘ফিউজিটিভ ইকনমিক অফেন্ডার’ বা পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী হিসেবে ঘোষিত। সম্প্রতি বেলজিয়ামের একটি আদালত তাঁর ভারতে প্রত্যর্পণের অনুমতি দিয়েছে। আদালত চোকসির বিরুদ্ধে আনা অপরাধচক্রে অংশগ্রহণ, জালিয়াতি, দুর্নীতি এবং জাল নথি ব্যবহারের মতো অভিযোগগুলিকে গুরুতর বলে মনে করেছে। যদিও চোকসি এই রায়ের বিরুদ্ধে বেলজিয়ামের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন।

পিএনবি কেলেঙ্কারি ২০১৮ সালে প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ, ব্যাঙ্কেরই কিছু কর্মীর সহায়তায় ভুয়ো ‘লেটার অফ আন্ডারটেকিং (এলওইউ)’ জারি করে নীরব মোদি ও মেহুল চোকসি বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছিলেন।