“মুর্শিদাবাদকে তৃণমূলময় করে দিয়েছিলাম আমি, মমতার কোনও ক্রেডিট নেই”! নিজের সাফল্যের ইতিহাস ওল্টালেন শুভেন্দু

হুমায়ুন কবীর নতুন দল গড়লে মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের বিশাল ক্ষতি হবে—এই মন্তব্য করে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর সৃষ্টি করলেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, মুর্শিবাদে তৃণমূলের সংগঠন গড়ে তোলার সমস্ত কৃতিত্ব তাঁরই।
হুমায়ুন কবীর ফ্যাক্টর ও শুভেন্দুর ভবিষ্যদ্বাণী
মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনীতিতে হুমায়ুন কবীরের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জোর গলায় হুঁশিয়ারি দেন।
“অনেককে দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও মুর্শিদাবাদে তৃণমূলকে আনতে পারেনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)। হুমায়ুন কবীর চলে গেলে ২২টি আসনে কংগ্রেস, সিপিএম জোট আর বিজেপি জিতবে।”
মুর্শিদাবাদ তৃণমূলের ‘ক্রেডিট’ বিতর্ক
শুভেন্দু অধিকারী নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তৃণমূলের সাংগঠনিক ইতিহাসের পাতা ওল্টান। তাঁর দাবি, মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের সংগঠন বিস্তার তিনি একাই করেছেন, সেখানে দলনেত্রীর কোনও অবদান নেই।
শুভেন্দুর দাবি: “মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস ছিল না। ১৯৯৮ সালে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা হয়… মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুকুল রায়, পূর্ণেন্দু বসু, ইন্দ্রনীল সেন অনেককে দিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করেও মুর্শিদাবাদে তৃণমূলকে আনতে পারেননি। আমাকে ২০০৫ থেকে ইন্দ্রনীলের সহযোগী করেছিলেন… ২০১৬ থেকে পূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমি গোটা মুর্শিদাবাদ জেলাকে তৃণমূলময় করে দিয়েছিলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও ক্রেডিট নেই।”
কংগ্রেসের পাল্টা কটাক্ষ: ‘তৃণমূলের প্রতি প্রেম’
শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্য নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। কংগ্রেস নেতা সৌম্য আইচ রায় তীব্র কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দুকে।
“ওনার মনে হয় তৃণমূলের প্রতি প্রেমটা আবার জেগে উঠেছে। তৃণমূলের ভাল-মন্দের উনি এখন বিচার করছেন।”
তিনি বিজেপি ও তৃণমূলকে একই বন্ধনীতে রেখে আক্রমণ করে বলেন, “আমরা তো সবসময় বলি তৃণমূল মানেই বিজেপি, আর বিজেপি মানেই তৃণমূল! অবস্থানগত পরিবর্তন, পতাকাটা আলাদা হতে পারে। কিন্তু জন্মটা সব আরএসএসেরই। ফলে উনি (শুভেন্দু) ভাল চিনবেন।”