‘ভিডিও মিথ্যা, আমি দাঁতনে যাইনি!’ খুনের অভিযোগে নাম আসা নিয়ে মুখ খুললেন রাজগঞ্জের বিডিও, ফাঁস করলেন নতুন তথ্য

বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী অপহরণ ও খুনের ঘটনায় নাম জড়াল রাজগঞ্জের ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও) প্রশান্ত বর্মনের। খুনের অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই জল্পনা চলছিল, অভিযুক্ত কি এই বিডিও-ই? শুক্রবার জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদে নির্বাচন কমিশনের একটি বৈঠকে যোগ দিতে এসে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন তিনি। সেখানেই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি এটিকে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন।

“ষড়যন্ত্রকারীরা ষড়যন্ত্র করে যাবে”
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বিডিও প্রশান্ত বর্মন বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারীরা ষড়যন্ত্র করে যাবে।’’

তিনি দাবি করেন, রাজগঞ্জে যোগ দেওয়ার পর তিনি ব্লকের বহু দুর্নীতি বন্ধ করেছেন। সংবাদমাধ্যম তাঁকে ‘দাবাং বিডিও’ উপাধিও দিয়েছিল। তাঁর অভিযোগ:

দুর্নীতির রাশ টেনেছিলেন: “আমি রাজগঞ্জে আসার পর রাজগঞ্জ ব্লকে অনেক দুর্নীতি বন্ধ করে দিয়েছি। ঠিকাদারদের দুর্নীতি বন্ধ করে দিয়েছি।”

চক্রান্তের ইঙ্গিত: “চ্যানেলে দেখা যাচ্ছে যিনি চোর, তিনি সংবাদমাধ্যমে বড় গলায় কথা বলছেন। যিনি সোনা গলিয়েছেন, তাঁর পরিবারও বড় গলায় কথা বলছেন। এটা থেকে বোঝা যাচ্ছে এতে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত আছে।’’

বিস্ফোরক দাবি: বিডিও আরও জানান, তাঁর কাছে একটি ফোন এসেছিল, যেখানে বলা হয়— “আপনার নামটা যদি ঢোকানো যায় তাহলে দেখবেন কী হয়।” তিনি অবৈধ রিসর্ট ভেঙেছেন এবং সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ করেছেন বলেও দাবি করেন।

‘আমি দাঁতনে যাইনি, ফুটেজ মিথ্যা’
খুনের ঘটনার সঙ্গে তাঁর জড়িত থাকার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে প্রশান্ত বর্মন স্পষ্ট জানান, “আমার বিরুদ্ধে যা অভিযোগ করা হচ্ছে, সবই ষড়যন্ত্র। আমি দাঁতনে যাইনি। ভাইরাল হওয়া ফুটেজ সমস্ত কিছুই মিথ্যা।”

তাঁর আরও দাবি, খুন হওয়া ওড়িশার বাসিন্দা স্বপন কামিলাকে তিনি চেনেন না। তাঁর নিজের কোনো সোনা চুরি হয়নি এবং তাঁর কোনো বাড়িও নেই।

তবে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট যে এই বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, তা তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন। বিডিও বলেন, “তদন্তের স্বার্থে আমি সব ধরনের সহযোগিতা করব। তবে আমি মিডিয়াকে বলব না।” আগাম জামিন নেবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও পাল্টা জবাব
বিডিও-র বিরুদ্ধে সম্প্রতি বদলি আটকে দেওয়া এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গে প্রশান্ত বর্মন বলেন, ‘‘আমার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। আমি এলএলবি পাশ করেছি। আর কিছুদিন পর ডক্টরেটও হয়ে যাব। যাঁরা আমার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁর তার জবাব পাবেন।’’ তিনি মিডিয়া বা অন্য লোক, যারাই চক্রান্ত করুক, তাদের জবাব দেবেন বলেও জানান।