মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্যে কিডনি ও লিভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই দুটি অঙ্গকে প্রাকৃতিকভাবে পরিষ্কার ও ভালো রাখতে পারে গ্রাম বাংলার মাঠে-ঘাটে, পুকুর পাড়ে অযত্নে গজিয়ে ওঠা একটি পরিচিত শাক— বথুয়া বা বেথো শাক।
একটা সময় শুধু শীতকালেই পাওয়া গেলেও, বর্তমানে মোটামুটি সারাবছরই পাওয়া যায় এই গুণসম্পন্ন শাক। বেথো শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফসফরাস, জিংক-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা মানব স্বাস্থ্যের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।
বেথো শাকের আশ্চর্য ঔষধি গুণ
শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের উপকারে আসে এই বেথো শাক। এর কয়েকটি আশ্চর্য গুণ নিচে তুলে ধরা হলো:
কিডনি ও লিভারের উপকার: বেথো শাক নিয়মিত খেলে তা কিডনি ও লিভারকে পরিষ্কার রাখে এবং পিত্ত বা মলাশয়ের মতো সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। কিডনিতে পাথর হলে প্রতিদিন ১ কাপ বেথো শাকের রস খেতে পারলে উপকার পাওয়া যায়।
ত্বকের সমস্যা: গরম জল পড়ে ত্বকের কোনও অংশ পুড়ে গেলে বা ফোসকা পড়লে, ওই অংশে বেথো শাক বেটে আলতো করে লাগিয়ে দিন। এতে ত্বকের জ্বালা ভাব খুব দ্রুত কমে যায়। ত্বকে শ্বেতির মতো সমস্যা নিরাময়েও বেথো শাক অত্যন্ত কার্যকরী।
মুখের ঘা: মুখে ঘা হলে বেথো শাক চিবিয়ে খেতে পারলে বা হালকা করে রান্না করে খেলে ঘা খুব তাড়াতাড়ি সেরে যায়।
প্রস্রাবের জ্বালা: প্রস্রাবের সময় যাদের জ্বালা করে, তারা বেথো শাকের শরবত তৈরি করে খেতে পারেন।
শরবত তৈরির পদ্ধতি: বেথো শাক বেটে তার সঙ্গে ২ চামচ জিরার গুঁড়া এবং ২ চামচ পাতিলেবুর রস মিশিয়ে শরবত বানিয়ে নিন।
ব্যবহার: দিনে অন্তত দু’বার এই শরবত খেতে পারলে এই সমস্যা কেটে যাবে।
এই শীতকালীন সহজলভ্য শাকটিকে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যুক্ত করে আপনি আপনার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে প্রাকৃতিক উপায়ে সুরক্ষিত রাখতে পারেন।