অনুপ্রবেশকারী বিতর্কে ভোটের দিনে উত্তাল বিহার! মোদির ‘চুল ছেঁড়ার’ হুঁশিয়ারি, RJD-কংগ্রেসকে দিলেন কঠিন চ্যালেঞ্জ!

বিহারে প্রথম দফার ১২১টি আসনে যখন ভোটগ্রহণ চলছে, ঠিক সেই দিনই আরারিয়ায় এক বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে বিরোধী আরজেডি-কংগ্রেস জোটকে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন তাঁর আক্রমণের মূল সুর ছিল ‘অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুতে বিরোধীদের ভূমিকা এবং মহাগঠবন্ধনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব।

অনুপ্রবেশকারী বিতর্কে বিরোধীদের কড়া সমালোচনা: প্রধানমন্ত্রী এদিন সরাসরি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) এবং কংগ্রেস তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে ‘অনুপ্রবেশকারীদের আড়াল’ করছে। তাঁর দাবি, বিরোধীরা দেশের স্বার্থ ভুলে গিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের সাহায্য করতে ব্যস্ত। মোদি বলেন, “আরজেডি এবং কংগ্রেস অনুপ্রবেশকারীদের সাহায্য করতে ব্যস্ত। এই সমস্ত অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে বিভিন্ন রকম মিথ্যা কথা বলে বেড়াচ্ছে এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করতে রাজনৈতিক মিছিল বের করছে।”

জোটের ফাটল ও ‘চুল ছেঁড়ার’ হুঁশিয়ারি: অনুপ্রবেশকারী ইস্যুর পাশাপাশি, মোদি বিরোধী জোটের অন্তর্কলহ নিয়েও সরাসরি কটাক্ষ করেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন শেষ হলেই দেখা যাবে আরজেডি এবং কংগ্রেস নেতারা একে অপরের ‘চুল ছিঁড়ছেন।’

সম্প্রতি মহাগঠবন্ধন জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তথা উপ মুখ্যমন্ত্রী মুখ মুকেশ সাহানি আরজেডি-কে আক্রমণ করে মন্তব্য করেছিলেন যে, আরজেডি-র আমলেই পিছিয়ে পড়া ‘নিষাদ’ গোষ্ঠীর উপরে অত্যাচার চলেছিল। প্রধানমন্ত্রী এদিন সেই মন্তব্যকেই হাতিয়ার করেন।

আরারিয়ার জনসভায় ভিড়ে ঠাসা সমর্থকদের সামনে দাঁড়িয়ে মোদি বলেন, কংগ্রেস আসলে আরজেডি-র বিরুদ্ধে সাহানিকে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। মোদি আরও বলেন, “এখন কংগ্রেস আরজেডির বিরুদ্ধে প্রথম সারিতেই উপ মুখ্যমন্ত্রীর নাম সামনে এনেছে। তিনি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন এবং সেখানে তিনি আরজেডির জঙ্গলরাজের বাস্তবতা প্রকাশ করছেন। তিনি বলছেন যে জঙ্গলরাজে দলিত, মহাদলিত এবং অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া শ্রেণির উপরে সবচেয়ে বেশি অত্যাচার চালানো হয়েছে।”

এরপরেই মোদির দাবি, “এটা তো সবে শুরু। নির্বাচনের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করুন। এই কংগ্রেস আরজেডির লোকেরা একে অপরের চুল ছিঁড়বে।”

প্রথম দফার ভোটগ্রহণের দিনে প্রধানমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক মন্তব্য বিহারের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।