জলবায়ু আতঙ্কে বিশ্ব! GHG নির্গমনে ভারত বিশ্বে প্রথম, প্যারিস চুক্তির ১.৫°C লক্ষ্যমাত্রা থেকে বহু দূরে বিশ্ব

রাষ্ট্রসঙ্ঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) দ্বারা প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্রিনহাউস গ্যাস (GHG) নির্গমনে ভারত বিশ্বব্যাপী প্রথম স্থানে উঠে এসেছে। কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস বৃদ্ধির এই প্রবণতা জলবায়ু ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে।
সর্বাধিক বৃদ্ধি ভারতে: UNEP রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে সর্বাধিক সামগ্রিক বৃদ্ধি (Highest Absolute Increase) ভারতেই রেকর্ড করা হয়েছে। ভারতের পরেই চীন কার্বন ডাই অক্সাইড বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইন্দোনেশিয়া দ্রুততম সামগ্রিক বৃদ্ধির হার রেকর্ড করেছে। G20 সদস্যদের (আফ্রিকান ইউনিয়ন বাদে) কার্বন নির্গমন ২০২৪ সালে ০.৭ শতাংশ বেড়েছে, যা বৈশ্বিক নির্গমনের ৭৭ শতাংশ। চিন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া সহ বিশ্বের ছয়টি বড় দেশে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে কেবলমাত্র ইউরোপীয় ইউনিয়নেই নির্গমন কমেছে।
প্যারিস চুক্তি থেকে বহুদূর: UNEP-এর পর্যালোচনা অনুযায়ী, প্যারিস চুক্তির অধীনে দেশগুলির দেওয়া নতুন জলবায়ু প্রতিশ্রুতি (NDCs) পর্যালোচনা করেও দেখা গেছে যে শতাব্দীর শেষে প্রত্যাশিত বিশ্ব উষ্ণায়নের হার সামান্যই কমেছে। রিপোর্ট নিশ্চিত করছে যে, বিশ্ব প্যারিস চুক্তির ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতা বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা থেকে বহু দূরে সরে যাচ্ছে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুসারে, এই শতাব্দীর শেষে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এমনকি সমস্ত প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হলেও, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২.৩°C থেকে ২.৫°C এর মধ্যে থাকবে বলে অনুমান করা হয়েছে।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “বিজ্ঞানীরা বলছেন যে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে একটি অস্থায়ী লঙ্ঘন (temporary overshoot) এখন অনিবার্য। কিন্তু এটি ক্লান্ত হওয়ার সময় নয়, এটি দ্রুত কাজ করার সময়। এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। এই লক্ষ্য এখনও অর্জনযোগ্য,” বলে তিনি জোর দেন।