ভালো ফলের গ্যারান্টি শেষ? কানুন জারির পরেও লুকিয়ে আনছে ফোন! কেন অতিরিক্ত ব্যবহারে ঝুঁকছে শিশুরা?

তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লবের যুগে ছোটবেলা থেকেই মোবাইল ফোনের প্রতি শিশুদের আসক্তি এক নতুন সামাজিক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। খাওয়ানোর সময় থেকে শুরু করে বিনোদনের সঙ্গী—সর্বত্রই মোবাইল। এর ফলস্বরূপ, পূর্বে ভালো ফল করা শিক্ষার্থীরাও বর্তমানে পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে খারাপ ফল করছে। এই আসক্তির জেরে কেবল শিক্ষাজীবনে নয়, শিশুদের শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেমে আসছে মারাত্মক প্রভাব।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় রামপুরহাটের শরদিন্দু মজুমদার বিদ্যায়তন অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের কুফল জানাতে একটি বিশেষ সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করে। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহকুমা বিদ্যালয় পরিদর্শক গোলাম কিবরিয়া। স্কুলের পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির প্রায় সাড়ে ৩০০ শিক্ষার্থীর ওপর শিক্ষকদের নজরে আসে যে, তাদের মনোযোগ ক্রমশ কমছে।
শিক্ষকদের অনুমান, এর পিছনে মূল কারণ হলো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ এবং মোবাইল গেমসে আসক্তি। এর ফলে একদিকে যেমন পড়াশোনায় অমনোযোগিতা বাড়ছে, তেমনি শারীরিক ও মানসিক সমস্যাও দেখা দিচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে তাদের আচরণেও। এই কারণেই কিছুদিন আগে স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের স্কুলে মোবাইল নিয়ে আসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল।
তবে স্কুলের নিষেধাজ্ঞার পরেও অনেক শিক্ষার্থী লুকিয়ে মোবাইল ব্যবহার করছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের নেতৃত্বে প্রোজেক্টরের মাধ্যমে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক দিকগুলি তুলে ধরা হয়। টিআইসি অনিতসুন্দর দাস অভিভাবকদের উদ্দেশ্য করে জানান, স্মার্টফোন থেকে নিঃসৃত রেডিয়েশন মস্তিষ্ক, কানসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করে। স্বাভাবিক বিকাশের সময়ে এই রেডিয়েশন আরও বেশি ক্ষতিকর এবং এর ফলে ক্যান্সারের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। শিক্ষকদের মতে, কেবল স্কুল নয়, অভিভাবকদেরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে যাতে শিশুরা প্রয়োজনের বাইরে মোবাইল ব্যবহার না করে।