প্লাস্টিকের ঝুড়ি নয়, কদর বাড়ছে বাঁশেরই! ঝাড়খণ্ড থেকে আসা পরিবারগুলি কীভাবে দুর্গাপুরের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে?

দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের স্থানীয় বাজারগুলিতে ঝাড়খণ্ডের তপসিলি উপজাতি মাহালি সম্প্রদায়ের হাতে তৈরি বাঁশের হস্তশিল্পের চাহিদা এখন তুঙ্গে। ঝাড়খণ্ড থেকে আসা এক ডজন মাহালি পরিবার দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে দুর্গাপুরের কাঁকসায় বসবাস করছেন এবং বাঁশের ঝুড়ি, কুলো সহ নানা সামগ্রী তৈরি করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন।
অভাবনীয় চাহিদা: বিকল্প নয়, বাঁশেরই কদর
বাঁশের ঝুড়ির বিকল্প হিসেবে বাজারে প্লাস্টিকের নানা ডিজাইনের ঝুড়ি এলেও, মাহালি পরিবারের সদস্যদের দাবি, বাঁশের ঝুড়ির চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
চাহিদা বৃদ্ধি: দুর্গাপূজা ও অবাঙালিদের ছট পূজার সময় শহর সহ গ্রামগঞ্জে ঝুড়ির চাহিদা তুঙ্গে থাকে। স্থানীয় কারিগররা এই বিপুল চাহিদা মেটাতে হিমসিম খান। ফলে ভিন জেলা ও ঝাড়খণ্ড সহ ভিনরাজ্য থেকে ঝুড়ি আমদানি করতে হয়।
আয়: এই কারিগরেরা স্থানীয় বাজার থেকে প্রতিটি বাঁশ ১৫০-২০০ টাকায় কিনে আনেন। একটি বাঁশ থেকে প্রায় ৭-৮টি ঝুড়ি তৈরি হয়, যা তারা আকার অনুযায়ী ৩০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করেন। পরিবারের আট থেকে আশি সকলেই এই ঝুড়ি তৈরির কাজে লিপ্ত থাকেন।
বংশপরম্পরার শিল্প এবং বাসস্থান
রুজি-রটির টানে ঝাড়খণ্ড থেকে এসে মাহালি পরিবারের লোকজন কাঁকসার সিলামপুরের রাস্তার পাশে মাটির ঘর করে বসবাস শুরু করেছেন। ওই এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে তল্লা বাঁশ পাওয়া যায়, যা ঝুড়ি সহ নানা সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
ঝুড়ি কারিগরদের দাবি, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গে মাহালি উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ বংশপরম্পরায় বাঁশের ঝুড়ি তৈরি করে জীবনজীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। সারাদিনে গোটা বাঁশ কেটে প্রক্রিয়াকরণ করে তারা ঝুড়ি, কুলো, ফলের সাজি সহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করেন।
পশ্চিম বর্ধমান জেলাতেই বহু স্থানীয় কারিগর ঝুড়ি তৈরির কাজ করলেও, দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে ঝুড়ির চাহিদা এতটাই যে মাহালিদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী ঝুড়ির কদর দিনের পর দিন বাড়ছে।