‘নিজের স্বার্থের জন্য বৈঠক’! গুরুংয়ের সর্বদলীয় ডাক ঘিরে পাহাড়ের রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক, কাদের সমর্থনে চলছে দর কষাকষি?

পাহাড়ের রাজনীতিতে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো বিমল গুরুং। আগামী ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি এবার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে কালিম্পংয়ে দলীয় সভা করার পরই ৯ নভেম্বর দার্জিলিংয়ের গোর্খা দুঃখ নিবারণী মঞ্চে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছেন গুরুং, যা ফের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক অভিসন্ধি: কেন এই সর্বদলীয় বৈঠক?
দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার পর বিমল গুরুং এখন হারানো মাটি ফিরে পেতে মরিয়া। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুংয়ের এই সর্বদলীয় বৈঠকের ডাকের পিছনে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে।
একক জয় অসম্ভব: বর্তমানে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার যে সাংগঠনিক শক্তি, তাতে গুরুং একা লড়ে জয়ী হতে পারবেন না বলে রাজনৈতিক মহলের কাছে স্পষ্ট।
জোটের প্রয়োজন: আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে নিজের জয় নিশ্চিত করতে জিএনএলএফ, সিপিআরএম, এবিজিএল-সহ অন্যান্য আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের সাহায্য তাঁর প্রয়োজন।
শাসক দলকে পরাজিত করা: পাহাড়ের শাসকদল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা (বিজিপিএম) এবং রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করতে হলে গুরুংকে এই বৃহৎ জোট গড়তেই হবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, গুরুং আগেভাগেই সেই জোটের ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছেন।
মোর্চার যুক্তি বনাম বিরোধীদের কটাক্ষ
মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করেছে। আগামীতে কেন্দ্রের কাছে একত্রিতভাবে কোন কোন দাবি রাখব, সেই বিষয়ে একমত হতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে।”
অন্যদিকে, গুরুংয়ের এই পদক্ষেপকে সরাসরি আক্রমণ করেছে বিজিপিএম। দলের মুখপাত্র এসপি শর্মা বলেন:
“বিমল গুরুং এই বৈঠক শুধুমাত্র নিজের স্বার্থের জন্য ডেকেছেন। তিনি বিধানসভার আগে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে একত্রিত করে তাদের বুঝিয়ে সমর্থন আদায়ের জন্য এসব করছেন।”
দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ এবং জিএনএলএফের সম্পাদক নীরজ জিম্বা এখনও কোনো আমন্ত্রণ পাননি বলে জানিয়েছেন। তবে ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্টের সভাপতি অজয় এডওয়ার্ড বলেছেন, পাহাড়ের স্বার্থে একত্রিত হতে তাঁদের কোনো অসুবিধা নেই।
প্রসঙ্গত, পাহাড়ের তিন বিধানসভা আসনের মধ্যে দার্জিলিং ও কার্শিয়াং বিজেপির দখলে, আর কালিম্পং আসনটি বিজিপিএমের দখলে। গুরুংয়ের লক্ষ্য আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করা।