মঙ্গলবার বিকেলে ছত্তিশগড়ের বিলাসপুর স্টেশন চত্বরে এক ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় অন্তত ৬ জন যাত্রী নিহত ও ১২ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। একটি যাত্রীবাহী মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেনের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালগাড়ির ভয়ঙ্কর সংঘর্ষ হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, যাত্রীবাহী মেমু ট্রেনটি সিগন্যাল উপেক্ষা করার কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
কী ঘটেছিল?
জানা গিয়েছে, এদিন বিকেল ৪টে নাগাদ বিলাসপুর স্টেশনের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দ্রুত গতিতে আসা মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি সজোরে ধাক্কা মারে মালগাড়ির পিছনে। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে, প্যাসেঞ্জার ট্রেনটির ইঞ্জিন ও সামনের কামরা মালগাড়ির উপর উঠে যায়। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ট্রেন থেকে এখনও পর্যন্ত ৬ জন যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ১২-এর বেশি যাত্রীকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে, সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। গুরুতর আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রেল কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই সাউথ ইস্ট সেন্ট্রাল রেলওয়ের (SECR) উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। SECR-এর জেনারেল ম্যানেজার তরুণ প্রকাশ এবং ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (DRM) উদ্ধারকাজের তদারকি করেন। রেলের তরফে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা হয় এবং আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
দুর্ঘটনার কারণ: সিগন্যাল উপেক্ষা?
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ হিসেবে মেমু ট্রেনের সিগন্যাল অমান্য করাকেই দায়ী করছে সাউথ ইস্ট সেন্ট্রাল রেলওয়ে। রেলের দাবি, মেমু ট্রেনটি নির্ধারিত সিগন্যাল উপেক্ষা করে এগিয়ে যায় এবং তার ফলেই মালগাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে।
বিলাসপুর রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত
এই দুর্ঘটনার কারণে ওই রুটে ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সংঘর্ষের জেরে রেললাইনের ওভারহেড তার ও সিগন্যালিং ব্যবস্থা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রেলওয়ে আধিকারিকরা দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটির (CRS) অধীনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
👉জরুরি হেল্পলাইন নম্বর:
যাত্রী ও তাঁদের পরিজনদের সুবিধার জন্য রেলের তরফে একাধিক ২৪ ঘণ্টা খোলা হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে:
- চম্পা জংশন: ৮০৮৫৯৫৬৫২
- রায়গড়: ৯৭৫২৪৮৫৬০
- পেন্দ্রা রোড: ৮২৯৪৭৩০১৬২
- জরুরী নম্বর: ৯৭৫২৪৮৫৪৯৯ এবং ৮৬০২০০৭২০২