জীবিকার সন্ধানে একসময় ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে যেতে বাধ্য হতেন জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি ব্লকের বারঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বহু মানুষ। কিন্তু এখন সেই চিত্রটা আমূল পাল্টে গিয়েছে। ফেলে দেওয়া মাছের আঁশ ও পাখনা সংগ্রহ করেই উপার্জনের এক নতুন পথ খুলে ফেলেছেন এই গ্রামীণ এলাকার মানুষজন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন ভরসা যোগাচ্ছে।
💰 আঁশ থেকে আসছে টাকা
বারঘরিয়া গ্রামের কয়েকটি পরিবার এখন এলাকার বিভিন্ন বাজার থেকে মাছ কাটার পর ফেলে দেওয়া মাছের আঁশ ও পাখনা সংগ্রহ করেন।
প্রক্রিয়াকরণ: সংগৃহীত এই আঁশ ও পাখনা বাড়ির পাশে ফাঁকা জায়গায় এনে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে বস্তাবন্দী করা হয়।
আয়: এই প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩২ কেজি উপকরণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। মাছের আঁশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৩২ টাকা দরে, আর মাছের পাখনা বিক্রি হয় ৮ থেকে ১০ টাকা দরে।
স্থানীয় এক মহিলা বলেন, “আগে ভেবে দেখিনি এই আঁশেরও দাম হতে পারে। এখন বাড়িতেই কাজ করছি, সংসারও ভাল চলছে।”
💄 কসমেটিকস সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহার
কিন্তু কী কাজে লাগে এই ফেলে দেওয়া আঁশ আর পাখনা? জানা গেছে, এসব পণ্য স্থানীয় ফড়েদের হাত ঘুরে শিলিগুড়ি ও কলকাতা হয়ে বাংলাদেশে রফতানি হয়।
সেখানে মাছের আঁশের প্রচণ্ড চাহিদা রয়েছে, কারণ এই আঁশ থেকেই তৈরি হয় নানা ধরনের কসমেটিকস সামগ্রী, যেমন:
নেইল পলিশ
ফেসপ্যাক
বিভিন্ন ত্বকচর্চার ক্রিম
বারঘরিয়ার এই পরিবেশবান্ধব এবং সৃজনশীল উদ্যোগ এখন ধীরে ধীরে অন্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। এই সামান্য উদ্যোগই প্রমাণ করে যে সৃজনশীল চিন্তাভাবনা থাকলে গ্রামবাংলায় তৈরি হতে পারে নতুন রোজগারের দিগন্ত।