মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে পাকিস্তান সহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ বর্তমানে সক্রিয়ভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে। তিনি এটিকে অন্যান্য দেশের মধ্যে একটি বৃহত্তর প্যাটার্নের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও তাদের নিজস্ব পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরু করতে হবে।
💣 পারমাণবিক পরীক্ষা নিয়ে ট্রাম্পের দাবি
রবিবার সিবিএস নিউজের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়া, চিন, উত্তর কোরিয়া এবং পাকিস্তান পারমাণবিক পরীক্ষা চালাচ্ছে, যেখানে আমেরিকাই একমাত্র দেশ যারা তা করছে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন:
“আমরা পরীক্ষা (পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা) করব কারণ ওরা পরীক্ষা করে এবং অন্যরাও পরীক্ষা করে… এবং অবশ্যই উত্তর কোরিয়া পরীক্ষা করছে। পাকিস্তান পরীক্ষা করছে।”
ট্রাম্প রাশিয়ার উন্নত পারমাণবিক-সক্ষম অস্ত্র, যেমন পসেইডন টর্পেডো-র সাম্প্রতিক পরীক্ষার সাফল্যের দাবিকেও সামনে আনেন।
🇺🇸 ‘বিশ্বকে ১৫০ বার ধ্বংস করার’ ক্ষমতা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষমতা নিয়েও মুখ খোলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন:
“আমাদের কাছে বিশ্বকে ১৫০ বার ধ্বংস করার মতো পর্যাপ্ত পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।”
ট্রাম্প বলেন, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, পারমাণু অস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সেরে ফেলা হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমরাই কেবল এটি করছি না, এবং আমি চাই না যে আমরাই একমাত্র দেশ হই যারা পরীক্ষা করে না।”
⚖️ পুতিনের পদক্ষেপ ও শোরগোল
ট্রাম্পের নির্দেশে তিন দশক পর আমেরিকায় পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করা হবে—এই বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে শোরগোল শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্লুটোনিয়াম নিষ্কাশন চুক্তির আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটিয়ে একটি আইনে স্বাক্ষর করেছেন।
তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার কথা বললেও, মার্কিন এনার্জি সেক্রেটারি ক্রিস রাইট ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় কোনও পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটানো হবে না, বরং এটি একটি সিস্টেমে পরীক্ষা করা হবে।