গণপিটুনির শিকারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে ইসলামি সংগঠন জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দ-এর দায়ের করা জনস্বার্থ মামলা (PIL) সম্পূর্ণরূপে খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, একটি একক জনস্বার্থ মামলা হিসেবে সব গণপিটুনির শিকারদের ক্ষতিপূরণ চাওয়া যাবে না; প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে তদন্ত ও নিষ্পত্তি করতে হবে।
⚖️ PIL খারিজের কারণ: ‘প্রতিটি ঘটনা আলাদা’
বিচারপতি বি.আর. গাভাই এবং বিচারপতি কেবি কল-এর নেতৃত্বে গঠিত শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ এই মামলার শুনানির সময় গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে।
আদালত জানায়:
“প্রতিটি মব লিঞ্চিং আলাদা পরিস্থিতিতে ঘটে। তাই এমন ঘটনাগুলি একত্রে বিচার করা যায় না। ভুক্তভোগী বা তাদের পরিবারকে প্রতিটি ঘটনার জন্য পৃথক মামলা করতে হবে।”
আদালত আরও স্পষ্ট করে, জনস্বার্থ মামলা হিসেবে এমন আবেদনের মাধ্যমে আদালতের সীমিত বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহার করা যায় না।
🏛️ বিচারালয় রাজনীতির স্থান নয়
জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের আবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, নিরপরাধ মানুষের জীবন ও মৌলিক অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তাই ক্ষতিপূরণ দেওয়া সরকারের কর্তব্য। তবে আদালত সেই যুক্তিতে সায় দেয়নি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায়ের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিল যে পিআইএল ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে সামগ্রিক ক্ষতিপূরণ বা রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টাকে আদালত সমর্থন করবে না।
আদালতের বার্তা: আদালত জানায়, বিচার প্রক্রিয়া সবার জন্য সমান, এবং “আইনের চোখে সবাই এক।” বিচারালয় ন্যায়ের স্থান, রাজনীতির নয়।
আইনের শাসন: আদালত এই রায়ের মাধ্যমে ‘মব লিঞ্চিং’ শব্দটির রাজনৈতিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তাও দিয়েছে। আইনের শাসনই সর্বোচ্চ এবং ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব কেবল তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই, দল বা ধর্মের ভিত্তিতে নয়।
👮 রাজ্যগুলিকে আদালতের নির্দেশিকা স্মরণ
শীর্ষ আদালত এই রায়ের পাশাপাশি রাজ্য সরকারগুলিকে আরও একবার সতর্ক করে দেয়। আদালত রাজ্যগুলিকে মনে করিয়ে দেয় যে, ২০১৮ সালের Tehseen Poonawalla মামলার নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতিটি রাজ্যে গণপিটুনি প্রতিরোধে বিশেষ পুলিশ টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ আগেই দেওয়া হয়েছে, তা যেন যথাযথভাবে কার্যকর করা হয়।
রায় ঘোষণার পর জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা এই বিষয়ে নতুন আইনি পথ বিবেচনা করবে।