‘খড়ের গাদায় সূচ খোঁজা!’ কেন বিহারের নির্বাচনী ভাষণে শালীনতা বিলুপ্ত? অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞের ক্ষুব্ধ বিশ্লেষণ

আর মাত্র দু’দিন বাকি। আগামী ৬ নভেম্বর বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ‘গণতান্ত্রিক অধিকার’ প্রয়োগ করবেন বিহারের মানুষ। কিন্তু ভোট-আবহে উত্তেজনার পারদ যত বাড়ছে, ততই তলানিতে গিয়ে ঠেকছে শাসক ও বিরোধীদের শব্দচয়নের মান। নির্বাচনী প্রচার কার্যত রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুঁড়িতে পরিণত হয়েছে।

🗣️ প্রধানমন্ত্রীর ‘বন্দুক’ থেকে যোগীর ‘বাঁদর’
স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারাও ব্যক্তিগত আক্রমণে নেমে এসেছেন। মঞ্চের ভাষা যেন শালীনতার সব মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি: তাঁর মুখে শোনা গিয়েছে, “কংগ্রেসের কানপাট্টিতে কান্টাপ (কানের গোড়ায় বন্দুক) রেখে তেজস্বীকে মহাগাঁঠবন্ধনের মুখ্যমন্ত্রীর মুখ করেছে আরজেডি”।

রাহুল গান্ধী: প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে কংগ্রেস নেতা বলেছেন, “ভোটের জন্য উনি মঞ্চে নাচতে পারেন, যোগব্যায়াম কোর্টে পারেন!”

যোগী আদিত্যনাথ: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী রাহুল, তেজস্বী ও অখিলেশকে ইঙ্গিত করে জোড় গলায় বলেছেন, “পাপ্পু, টাপ্পু, আক্কু হল ইন্ডি জোটের তিন বাঁদর!”

এছাড়াও তেজপ্রতাপ যাদব রাহুলকে ‘রাসোইয়া’ (রাঁধুনি) বলেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী এনডিএ-কে “ঠগবন্ধন” বলে কটাক্ষ করেছেন। অভিজ্ঞমহল মনে করছে, বিহারের নির্বাচনী মাঠে নেতা-মন্ত্রীদের ভাষণে বর্তমানে শালীনতা খোঁজা মানে যেন ‘খরের গাদায় সূচ খোঁজা’!

⚠️ ‘অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করছেন নেতারা’
নির্বাচনী প্রচারে আদর্শ আচরণবিধি (MCC) বর্তমানে বিহারের মাটিতে প্রযোজ্য নয় বলেই মনে করছেন অনেকে। একে অপরকে দোষারোপ করতে গিয়ে নেতারা প্রতিদ্বন্দ্বীদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করছেন, অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করছেন।

এই প্রসঙ্গে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ অজয় কুমার তাঁর ক্ষুব্ধ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন,

“১৯৯০ সালের নির্বাচনের পর থেকে আমি বিহারের খবর প্রচার করে আসছি। আমি রাজীব গান্ধী, অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং জর্জ ফার্নান্দেজের মতো ভালো বক্তাদের কথা শুনেছি। কিন্তু তাদের কেউই তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেননি।”

তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘খুবই বিরক্তিকর’ বলে উল্লেখ করেন।

আগামী ৬ নভেম্বর প্রথম দফায় বিহারে ভোটগ্রহণ। দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন হবে ১১ নভেম্বর এবং ফলাফল ঘোষিত হবে ১৪ নভেম্বর। চূড়ান্ত এই মুহূর্তে নেতাদের শব্দচয়ন গণতন্ত্রের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy