রাজ্য রাজনীতিতে নেমে এল শোকের ছায়া। রবিবার ভোরে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ফরাক্কার প্রাক্তন বিধায়ক তথা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মইনুল হক (Moinul Haque)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর।
পরিবার ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই মইনুল হকের চিকিৎসা চলছিল। দীর্ঘদিন রোগভোগের পর রবিবার ভোররাতে তাঁর জীবনাবসান হয়। এই অভিজ্ঞ নেতার প্রয়াণে ফরাক্কা থেকে শুরু করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
মমতা-অভিষেকের শোকবার্তা
মইনুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন:
“আমার রাজনৈতিক সহকর্মী মইনুল হকের প্রয়াণে গভীর শোকজ্ঞাপন করছি। তিনি ফরাক্কার প্রাক্তন বিধায়ক ছিলেন এবং গত কয়েক বছর ধরে দলের উচ্চ পর্যায়ে আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর পরিবার, বন্ধু এবং সমর্থকদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা জানাই।”
অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সামাজিক মাধ্যমে শোকবার্তা দিয়ে পরিবারকে শক্তি যোগানোর ও পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
রাজনৈতিক জীবনে মইনুল হক
পথচলা: মইনুল হকের রাজনৈতিক জীবনের শুরু হয় কংগ্রেসের হাত ধরে। ছাত্র রাজনীতি থেকেই তিনি এলাকায় একজন দাপুটে সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পাঁচবার জয়: ১৯৯৬ সালে তিনি প্রথমবার কংগ্রেসের টিকিটে ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটে লড়ে জয়ী হন। এরপর টানা পাঁচবার একই কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করে নিজেকে একজন শক্তিশালী জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
উচ্চস্তরের দায়িত্ব: তিনি সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সদস্য ছিলেন এবং জম্মু-কাশ্মীরে দলের পর্যবেক্ষকের দায়িত্বও সামলেছেন।
দলবদল: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর তিনি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে দলের উচ্চস্তরে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেন।
দলমত নির্বিশেষে বহু মানুষের কাছে তিনি ছিলেন সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের অধিকারী। স্থানীয় নেতারা জানান, উন্নয়নমূলক নানা কাজে তিনি অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজ্যের শাসকদল ও বিরোধী শিবির উভয়েই স্মৃতিচারণ করেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর তাঁর দেহ শেষকৃত্যের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। বহু রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষ তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফরাক্কার রাজনীতিতে তাঁর অসামান্য সাংগঠনিক দক্ষতা ও দীর্ঘ জন-আলাপের ঐতিহ্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।