অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলম জেলায় সদ্য নির্মিত শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর স্বামী মন্দিরে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনা ঘটল। একাদশীর সকালে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে প্রাণ হারান ১২ জন ভক্ত, যার মধ্যে আটজন মহিলা ও একজন শিশু রয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গোটা রাজ্যজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যে মন্দির কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু (Chandrababu Naidu)।
‘চিন্না তিরুপতি’তে কীভাবে ঘটল এই বিপর্যয়?
স্থানীয়দের কাছে ‘চিন্না তিরুপতি’ বা ‘মিনি তিরুপতি’ নামে পরিচিত এই মন্দিরটি মাত্র চার মাস আগে তৈরি করেছিলেন ৯৪ বছর বয়সী ভগবান ভেঙ্কটেশ্বরের একনিষ্ঠ ভক্ত হরি মুকুন্দ পাণ্ডা। এখনও মন্দিরের নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। কিন্তু শনিবার একাদশীর দিন বিশেষ পুজোর জন্য সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমাতে থাকেন।
সকাল ৯টা নাগাদ মন্দিরের একমাত্র সরু দরজায় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে শুরু হয় ঠেলাঠেলি। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং ঘটে যায় ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনা। নিহত ১২ জনের তালিকায় ছিল এক শিশু-সহ আটজন মহিলা। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
“প্রশাসনকে জানানোর প্রয়োজন মনে করিনি,” বললেন পুরোহিত
পদপিষ্টের ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী নাইডু জানিয়েছেন, এই ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মিত মন্দিরটিতে অনুষ্ঠানের জন্য স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন মন্দিরটির পুরোহিত ও নির্মাতা হরি মুকুন্দ পাণ্ডা। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
“আমি আমার নিজের জমিতে মন্দির তৈরি করেছি। প্রশাসনকে জানানোর প্রয়োজন মনে করিনি। আমাদের মন্দিরে সাধারণত এত ভিড় হয় না। আমি নিজের টাকায় প্রসাদ রান্না করি। মানুষ আসে, দর্শন করে, প্রসাদ খায়, তারপর চলে যায়। কিন্তু শনিবার সকালেই ভিড় হঠাৎ বেড়ে যায়। রান্না করা প্রসাদ শেষ হয়ে যায়, নতুন কিছু তৈরি করার সময়ও পাইনি।”
মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু অবশ্য এই বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখজনক যে এতজন নিরীহ মানুষের প্রাণ গেল। যদি আয়োজকরা আগে জানাতেন, তাহলে আমরা নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিতে পারতাম। কিন্তু সেই সমন্বয়ের অভাবের কারণেই আজ এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।’
দুর্ঘটনার পর পরই মন্দিরটি তালা দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানা গেছে। এই ভয়াবহ ঘটনা প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন তুলল।