হাতে বাকি আর মাত্র তিন দিন। আগামী ৬ নভেম্বর বিহারের মোকামা (Mokama) সহ প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হতে চলেছে। এই আবহে, মোকামার ক্ষমতাশালী নেতা তথা ‘বাহুবলী’ দুলারচাঁদ যাদব (Dularchand Yadav)-এর নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ভোটমুখী বিহারে ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে কোনো প্রকার অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)।
কমিশনের কড়া বার্তা: ‘জিরো টলারেন্স’
রবিবার কানপুরে এক সাংবাদিক বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট করে দেন, নির্বাচন কমিশন অশান্তি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলবে। বিহারবাসীকে সুষ্ঠু ভোটের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন,
“আমি সকলের কাছে আবেদন করছি যে আপনারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য এগিয়ে আসুন। অশান্তি-সহিংসতার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। কোনও সহিংসতার ঘটনা সহ্য করা হবে না।”
তিনি আরও নিশ্চিত করেন, ভোটাররা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে কমিশন প্রস্তুত। “আমাদের ২৪৩ জন রিটার্নিং অফিসার, অসংখ্য পর্যবেক্ষক, প্রতিটি জেলার কালেক্টর, এসপি, এসএসপি, পুলিশ পর্যবেক্ষক—সবাই প্রস্তুত,” বলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
হত্যার পর কড়া পদক্ষেপ
প্রসঙ্গত, গত ৩০ অক্টোবর মোকামা বিধানসভা কেন্দ্রের ঘোসবাড়ি থানা এলাকায় খুন হন এক সময়ের লালুপ্রসাদ যাদবের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী দুলারচাঁদ। তিনি সেদিন জন সুরজ প্রার্থী পীযূষ প্রিয়দর্শিনীর জন্য প্রচার করছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের পরই মোকামার জেডিইউ প্রার্থী অনন্ত সিং-কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই হাই-প্রোফাইল খুনের পরই নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশন। ১ নভেম্বর কমিশন মোকামা বিধানসভা নির্বাচনী এলাকায় নিযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে বদলির নির্দেশ দেয় এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া, এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিহার পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজিপি)-এর কাছ থেকে একটি বিস্তারিত রিপোর্টও চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। অস্থির মোকামায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে কমিশন যে বদ্ধপরিকর, এই পদক্ষেপগুলি তারই ইঙ্গিত।