লালসার ফল নয়, এটি ভালোবাসার অপরাধ’! স্ত্রী-সন্তানের সুখের কথা ভেবে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ দেশের সর্বোচ্চ আদালতের, কী ছিল কারণ?

নাবালিকাকে অপহরণ ও যৌন নিগ্রহের (POCSO Case) দায়ে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা হয়েছিল এক যুবকের। কিন্তু এক যুগান্তকারী রায়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সেই সাজা বাতিল করে দিল। যে নাবালিকা কন্যাকে নিগ্রহের দায়ে সাজা হয়েছিল, সেই কন্যার সঙ্গে যুবকের সুখী দাম্পত্য এবং তাঁদের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।

সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং অগাস্টিন জর্জ মাসিহ্-র ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছিল। বিচারপতিরা জানান, এই দম্পতি এখন সুখে সংসার করছেন এবং তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে। আদালত মনে করে, এই পরিস্থিতিতে কঠোর আইন ব্যবহার করে অন্যায় হতে দেওয়া যায় না।

বিচারপতিদের মন্তব্য:

“আমাদের মতে, এটি এমন একটি মামলা, যেখানে আইনকে ন্যায়ের সামনে নতি স্বীকার করতে হবে।”

আদালত জানায়, অপরাধটি ‘লালসার ফলশ্রুতি’ নয়, বরং ‘ভালোবাসার ফলশ্রুতি’। নির্যাতিতা নিজেই আদালতে জানান, তিনি যুবকের সঙ্গে সুখে সংসার করছেন এবং স্থিতিশীল পারিবারিক জীবন কাটাতে চান। তিনি চান না তাঁর স্বামীর গায়ে অপরাধীর তকমা থাকুক।

কেন বাতিল হলো সাজা?
যুবকটির সাজা বাতিলের পিছনে আদালত মানবিক দিকটিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণ করে:

পারিবারিক স্থিতিশীলতা: আবেদনকারীকে কারাগারে রাখলে তাঁর পারিবারিক জীবন ব্যাহত হবে এবং স্ত্রী, শিশুসন্তান ও সামাজিক পরিকাঠামোর অপূরণীয় ক্ষতি হবে।

আপসের ঊর্ধ্বে মানবিকতা: আদালত স্বীকার করেছে যে POCSO-এর মতো জঘন্য অপরাধ আপসের মাধ্যমে বাতিল করা যায় না। তবে নির্যাতিতা ও তাঁর স্ত্রীর ‘করুণা ও সহানুভূতির জন্য আর্তনাদ’ উপেক্ষা করা হলে ন্যায়বিচারের লক্ষ্য পূরণ হবে না।

অনুচ্ছেদ ১৪২-এর বিশেষ ক্ষমতা: এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট অনুচ্ছেদ ১৪২-এর আওতায় বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে আবেদনকারীর সাজা বাতিল করে দেয়।

সতর্ক করে দিলো আদালত
যদিও সাজা থেকে নিষ্কৃতী দেওয়া হয়েছে, আদালত কঠোরভাবে আবেদনকারীকে সতর্কও করেছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, কোনও অবস্থাতেই তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে ত্যাগ করতে পারবেন না এবং জীবনভর তাঁদের সমস্ত দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আবেদনকারীর তরফে কোনও ত্রুটি দেখা দিলে, তাঁর পরিণতি সুখকর নাও হতে পারে। একইসঙ্গে আদালত এও জানিয়েছে, এটি একটি অভূতপূর্ব রায়, যা অন্য মামলার ক্ষেত্রে নজির হিসেবে ধরা উচিত হবে না।

জানা গিয়েছে, মেয়েটি নাবালিকা থাকা অবস্থাতেই যুবকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল এবং পরে তাঁরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই মামলাটিকে আদালত ‘অদ্ভুত’ বলে উল্লেখ করেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy