মানবিকতার প্রশ্ন, না শুধুই রাজনীতি? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ সত্ত্বেও কেন বন্দি ধর্মীয় নিপীড়িত হিন্দুরা?

পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) বিভিন্ন জেলে আটক থাকা বহু বাংলাদেশি হিন্দু শরণার্থীকে (Bangladeshi Hindu Refugees) অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানাল বিজেপি (BJP)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (Union Home Ministry) স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার তা মানছে না, এই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির।

কী বলছে কেন্দ্রীয় নোটিফিকেশন?
বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি বিশেষ নোটিফিকেশনের মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছে যে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান শরণার্থীদের বিরুদ্ধে ‘Foreigners Act’ অনুযায়ী কোনো মামলা করা যাবে না বা তাদের আটক করা যাবে না।

কিন্তু বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় আইনের এই সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলে এখনও বহু বাংলাদেশি হিন্দু নাগরিককে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকে বছরের পর বছর ধরে বিচার ছাড়াই আটক অবস্থায় রয়েছেন।

আইন অমান্য ও মানবিকতার প্রশ্ন
দলের এক মুখপাত্রের কথায়, “এটা শুধু কেন্দ্রীয় আইন অমান্য নয়, এটা মানবিকতারও পরিপন্থী। Foreigners Act কেন্দ্রীয় আইন, তাই কেন্দ্রীয় নোটিফিকেশন অনুযায়ী রাজ্যের প্রশাসন এই শরণার্থীদের মুক্তি দিতে বাধ্য। কিন্তু রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের জেলে পাঠাচ্ছে। এটা অন্যায়।”

বিজেপির মানবাধিকার সেল ও আইনজীবী শাখা ইতিমধ্যেই এই “বেআইনি আটক”-এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর, এমনকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকেও লিখিতভাবে জানিয়েছে।

আন্দোলনের হুঁশিয়ারি, PIL-এর প্রস্তুতি
বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দিয়েছে, রাজ্য সরকার যদি দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তারা কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করবে। দলীয় নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, “যদি প্রয়োজন হয়, রাজ্যজুড়ে আন্দোলন শুরু হবে। ধর্মীয় কারণে নির্যাতিত কোনো হিন্দুকে ভারতীয় মাটিতে বন্দি রাখা আমাদের নীতিবিরুদ্ধ।”

বিজেপির শীর্ষ নেতারা আরও বলেন, “বাংলাদেশে যারা অত্যাচারের শিকার হয়ে ভারতে এসেছেন, তারা আশ্রয়ের জন্য এসেছেন, অপরাধী নন। তাদের ওপর নতুন করে প্রশাসনিক অত্যাচার মেনে নেওয়া হবে না।”

সংঘাতের নতুন দিক, নীরব রাজ্য প্রশাসন
বিজেপির এই অভিযোগ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) ও Foreigners Act দুটোই কেন্দ্রীয় আইনের আওতায়, তাই রাজ্য সরকার আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ না করলে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।

যদিও এ বিষয়ে রাজ্যের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি। স্বরাষ্ট্র দফতরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যদি কেউ সত্যিই বৈধ নোটিফিকেশনের আওতায় পড়ে, তবে মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে প্রতিটি কেস আলাদা, তাই যাচাই না করে বলা সম্ভব নয়।”

তৃণমূল (TMC) নেতাদের একাংশের দাবি, বিজেপি এই ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, “এটা মানবিকতার প্রশ্ন, রাজনীতির নয়।” এই টানাপোড়েনের মধ্যে মূল প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে: পশ্চিমবঙ্গের জেলে বন্দি এই হিন্দু শরণার্থীদের ভবিষ্যৎ কী?

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy