ইউক্রেন যুদ্ধের আঁচ এবার ভারতে! ট্রাম্পের চোখরাঙানি সত্ত্বেও কেন ডিসকাউন্টেড রাশিয়ান তেল কিনছে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন?

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার এনার্জি রাজস্ব কমানোর জন্য মার্কিন সরকার ভারতকে ক্রমাগত চাপ দেওয়া সত্ত্বেও, দেশের সবচেয়ে বড় তেল পরিশোধনকারী কোম্পানি ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (আইওসি) আবারও রাশিয়ান ক্রুড অয়েল কেনা শুরু করেছে। এই ক্রয় প্রক্রিয়া করা হয়েছে নন-স্যাঙ্কশনড এনটিটি (Non-Sanctioned Entity) বা নিষিদ্ধ নয় এমন সংস্থাগুলোর কাছ থেকে, যা আমেরিকার চোখরাঙানির বিরুদ্ধে ভারতের একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

⛽ ডিসেম্বরের জন্য বিশাল অর্ডার
রয়টার্সের রিপোর্ট অনুসারে, আইওসি ডিসেম্বরের জন্য প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন ব্যারেলের সমান পাঁচটি কার্গো রাশিয়ান তেলের অর্ডার দিয়েছে। এই তেলের বেশিরভাগই ইসপিও (ইস্টার্ন সাইবেরিয়া-প্যাসিফিক ওশান) ধরনের, যা দুবাইয়ের কোটেশনের সমান দামে কেনা হয়েছে এবং পূর্ব ভারতের একটি বন্দরে পৌঁছাবে।

আমেরিকার নতুন স্যাঙ্কশন ও ভারতের কৌশল
গত সপ্তাহেই ওয়াশিংটন রাশিয়ার দুটি সবচেয়ে বড় তেল কোম্পানি রোসনেফট এবং লুকঅয়েলের উপর নতুন স্যাঙ্কশন জারি করেছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নির্দেশ অনুসারে, বিশ্বব্যাপী ক্রেতাদের ২১ নভেম্বরের মধ্যে এই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করে দিতে হবে। এর ফলে ভারতের একাধিক রিফাইনারি, যেমন এইচপিসিএল-মিত্তাল এনার্জি লিমিটেড এবং রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, রাশিয়ান তেল কেনা স্থগিত করেছিল।

আইওসি নিজেও গত সপ্তাহে সাত থেকে আটটি শিপমেন্ট বাতিল করেছিল। তবে এখন তারা সতর্কতার সঙ্গে নন-স্যাঙ্কশনড সাপ্লায়ারদের থেকে ক্রয় শুরু করেছে—যা স্যাঙ্কশনের সীমানা না অতিক্রম করে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

💬 IOC-র বক্তব্য: ‘স্যাঙ্কশন না থাকলে কিনব’
আইওসির ফাইন্যান্স হেড অনুজ জৈন ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন:

“যতদিন না লেনদেন স্যাঙ্কশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, ততদিন আমরা রাশিয়ান তেল কিনতে থাকব।”

নয়াদিল্লি বারবার বলে আসছে যে, রাশিয়ান তেল কেনা ভারতের এনার্জি সিকিউরিটির জন্য অপরিহার্য। বিশ্বের দ্রুত বাড়তে থাকা তেলের চাহিদা মেটাতে এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে এই ডিসকাউন্টেড তেল একটি বড় সুবিধা। গত তিন বছরে রাশিয়া তার তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ ভারতে রফতানি করছে।

🤝 ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ এবং কোয়াড (QUAD) কৌশলগত অংশীদারিত্ব থাকা সত্ত্বেও ভারত রাশিয়ার সঙ্গে তার ঐতিহ্যবাহী সম্পর্ক এবং এনার্জি নির্ভরতা বজায় রাখছে। নয়াদিল্লি জোর দিয়ে বলছে যে, তারা কোনো স্যাঙ্কশন ভঙ্গ করছে না, বরং আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যেই থেকে ব্যবসা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি স্মার্ট ডিপ্লোম্যাসি, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে ভারতের স্বাধীনতাকে তুলে ধরছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy