বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) ‘বেঁধে রাখার’ নিদান দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতা। এই মন্তব্যের পরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি। এই মর্মে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে গেরুয়া শিবির।
ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মণের বিরুদ্ধে বুথ লেভেল অফিসারকে (BLO) হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করার জন্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) কাছে একটি চিঠি লিখেছে।
বিজেপির মূল অভিযোগ:
বিজেপির অভিযোগ, কোচবিহার জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মণ প্রকাশ্যে বিএলও-কে হুমকি দিয়েছেন। বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়া ৩১ অক্টোবরের চিঠিতে সিইও-কে লিখেছেন:
“ভয় দেখানোর একটি নির্লজ্জ ঘটনায়, টিএমসি কোচবিহার জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মণ প্রকাশ্যে বিএলও-কে হুমকি দিয়েছেন এবং তার দলের কর্মীদের (গুন্ডাদের) বলেছেন যে বিএলও যদি ‘২০০০ সালের সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা’ ছাড়া আসে তবে তাকে বেঁধে রাখতে। ‘আমরা তাকে বেঁধে রাখব,’”
বিজেপি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে গিরীন্দ্রনাথ বর্মণের বিরুদ্ধে একজন সরকারি কর্মচারীকে তার দায়িত্ব পালনের সময় হুমকি দেওয়ার জন্য অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করার আর্জি জানিয়েছে। চিঠিতে স্পষ্ট লেখা হয়েছে, “যদি অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে এই ধরনের হুমকির ঘটনা বাড়তেই থাকবে এবং শারীরিক আক্রমণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”
সরব বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী:
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীও এই ঘটনায় তৃণমূলের কড়া সমালোচনা করেছেন। এক্স (আগেকার টুইটার)-এ একটি পোস্ট শেয়ার করে তিনি বলেন:
“আমি আপনার জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বাধ্য হচ্ছি @CEOWestBengal, এটি একটি নির্লজ্জ ভীতি প্রদর্শনের কাজ যা তৃণমূলের বছরের পর বছর ধরে তৈরি করা স্বৈরাচারী কৌশলের গন্ধ ছড়াচ্ছে… তৃণমূলের কোচবিহার জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মণ, যিনি নেতা সেজে থাকলেও স্থানীয় ডনের মতো আচরণ করেন, তিনি প্রকাশ্যে সেই বিএলও-দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন যাদের আমাদের নির্বাচনী তালিকার পবিত্রতা রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে ‘এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার তৃণমূলের ধ্বংসাত্মক কৌশলের লক্ষণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল নির্বাচনী তালিকা পরিষ্কার করতে চায় না, যা দশক ধরে ‘ভূত, অনুপ্রবেশকারী এবং ভুয়ো ভোটার’ দিয়ে ফোলানো হয়েছে।
তিনি আরও লেখেন, “বিএলও-রা, যারা প্রায়শই সাধারণ সরকারি কর্মচারী, তারা কীভাবে তাদের ঘরে ঘরে গিয়ে দায়িত্ব পালন করবে যখন তৃণমূলের কর্মীরা প্রকাশ্যে তাদের বেঁধে রাখার শপথ নিচ্ছে? মিস্টার সিইও, নির্বাচন কমিশন এই প্রতিকূল পরিবেশে গণতন্ত্রকে শ্বাসরুদ্ধ হতে দেখে চুপ করে বসে থাকতে পারে না। আমি আপনাকে কঠোরভাবে অনুরোধ করছি এই ধরনের হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।”
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘোষণা:
উল্লেখ্য, এই বিতর্কের মধ্যেই ভারতের নির্বাচন কমিশন ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর দ্বিতীয় পর্ব পরিচালনার কথা ঘোষণা করেছে। এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে। এই প্রক্রিয়ার আওতায় থাকবে পশ্চিমবঙ্গও।