ওয়াশিংটন ডি.সি.: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা H-1B ভিসা সংক্রান্ত কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনার জন্য তাঁর কাছে আবেদন জানালেন সে দেশের আইন প্রণেতারা। তাঁদের দাবি, মার্কিন প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-এর কাজের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় নাগরিকরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং ভিসার নিয়মে কড়াকড়ি কাজের সেই ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিনিধি জিমি প্যানেটা, অমি বেরা, সালুদ কারবাজাল এবং জুলি জনসন যৌথভাবে এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ট্রাম্পকে চিঠি লেখেন।
চিঠিতে মূল দাবি:
আইন প্রণেতারা ট্রাম্পের কাছে ১৯ সেপ্টেম্বরের অভিবাসন সংক্রান্ত ঘোষণা স্থগিত করে বিষয়টি নিয়ে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছেন। তাঁদের যুক্তির প্রধান দিকগুলি হলো:
ভারত-মার্কিন সম্পর্ক: H-1B ভিসার গুরুত্ব কেবল আমেরিকার অর্থনীতি বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং ভারতের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার জন্যও অপরিসীম।
ভারতীয় মেধার গুরুত্ব: গত বছর H-1B ভিসা প্রাপকদের মধ্যে ৭১ শতাংশই ছিলেন ভারতীয়। নিয়মে শিথিলতা আনলে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও উন্নত হবে।
প্রযুক্তি নেতৃত্ব: চীন যখন উন্নত প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, তখন আমেরিকার উচিত বিশ্বের সেরা প্রতিভাদের আকৃষ্ট করে দেশের উদ্ভাবনী বাস্তুতন্ত্র ও প্রতিরক্ষা মজবুত করা। তাঁদের মতে, H-1B ভিসা আমেরিকার বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
H-1B ভিসার নতুন শুল্কনীতি বিতর্ক:
সম্প্রতি ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি সংক্রান্ত এক নির্দেশনামায় উল্লেখ করা হয়েছিল, H-1B ভিসার জন্য মার্কিন সংস্থাগুলিকে বছরে ১ লক্ষ মার্কিন ডলার (প্রায় ৮৮ লক্ষ টাকা) দিতে হবে। যদিও পরে হোয়াইট হাউসের তরফে স্পষ্ট করা হয়, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কেবলমাত্র নয়া আবেদনকারীদের জন্য একবারই দিতে হবে এবং বর্তমানে ভিসা রয়েছে এমন কর্মীদের উপর এর কোনও প্রভাব পড়বে না। তবুও এই সিদ্ধান্তে ভারতীয় পেশাদারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
নতুন শুল্কনীতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিলই। এর মধ্যেই শুক্রবার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দশ বছরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই আবহে মার্কিন আইন প্রণেতারা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে যেন কোনও বিরূপ প্রভাব না-পড়ে, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।