উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ে পুলিশ এক অভূতপূর্ব অভিযানে এক মহিলা ডাকাত গ্যাংয়ের পর্দাফাঁস করেছে। এই চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ই-রিকশায় সাধারণ যাত্রী সেজে উঠে মহিলা যাত্রীদের টার্গেট করত এবং সুযোগ বুঝে ছিনতাই চালাত। শুক্রবার পুলিশের বিশেষ অভিযানে এই গ্যাংয়ের ছয় সদস্যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
যেভাবে চলত লুটপাট:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত নারীরা মূলত পূর্ব উত্তরপ্রদেশের চন্দৌলি, মউ এবং গাজীপুর জেলার বাসিন্দা। লখনউ শহরে সক্রিয় হয়ে তারা লুটপাট চালাত:
পদ্ধতি: তারা সাধারণ যাত্রী সেজে ই-রিকশায় উঠত।
টার্গেট: বিশেষত বয়স্ক মহিলা যাত্রীদের টার্গেট করা হতো।
অপরাধ: সুযোগ বুঝে পাশের যাত্রীর গয়না, চেইন বা ব্যাগ কৌশলে ছিনিয়ে নিত।
ধৃত ছয় সদস্যার নাম হলো: জ্যোতি, মালা, অর্চনা, লক্ষ্মী, নীতু এবং বন্দনা।
নারী উপ-পরিদর্শক গুরুপ্রীত কৌর জানিয়েছেন, “আমাদের কাছে আগে থেকেই তথ্য ছিল যে, একদল মহিলা ই-রিকশা ব্যবহার করে শহরে চুরি ও ছিনতাই চালাচ্ছে। স্থানীয় সূত্র থেকে খবর পেয়ে হুসড়িয়া এলাকায় ফাঁদ পাতা হয়। শুক্রবার সকালে মহিলা পুলিশ দল ও স্থানীয় থানা মিলিতভাবে অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলে।”
উদ্ধার ও যোগসূত্র:
পুলিশ এদের কাছ থেকে তিনটি সোনার চেইন, একটি মণিমুক্তার মালা এবং ₹১৩,০০০ নগদ টাকা উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই মহিলা গ্যাংটি লখনউয়ের গোমতীনগর, চিনহাট এবং বিভূতিখণ্ড এলাকার একাধিক লুটের ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের মূল নেপথ্য মস্তিষ্ক এখনো ধরা পড়েনি। অনুমান করা হচ্ছে, আরও কিছু নারী সদস্য এই দলে সক্রিয় আছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের অবস্থান জানার চেষ্টা চলছে।
লখনউ পুলিশ কমিশনার অফিসের সিনিয়র আধিকারিকরা ই-রিকশা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি টহল ও নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। শহরবাসীকেও অপরিচিত কারও সঙ্গে রিকশা ভাগ করে যাত্রা না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।