বিচারপতির কমিটির ফরেনসিক অডিট কেন?’ রোজভ্যালি টাকা ফেরানোর ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে CAG তদন্তের পথে হাইকোর্ট

রোজভ্যালি-সহ বিভিন্ন চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে প্রতারিত আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর ক্ষেত্রে এবার আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা ভাবছে কলকাতা হাইকোর্ট। তবে এই প্রক্রিয়ায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য নিযুক্ত কর্মীদের খরচ বহন নিয়ে।

বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ও বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আমানতকারীদের অর্থ থেকে এই কাজের জন্য কোনো খরচ করা যাবে না। অন্যদিকে, রাজ্য বা কেন্দ্র কোনো পক্ষই এর দায়িত্ব নিতে চাইছে না।

ADJ কমিটির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ
আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর দায়িত্বে থাকা হাইকোর্ট গঠিত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দিলীপ শেঠ কমিটি (অ্যাসেট ডিসপোজাল কমিটি বা ADJ)-এর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কমিটিটির ফরেনসিক অডিট করার দায়িত্ব সেবি (SEBI)-কে দিয়েছিল। কিন্তু সেবি তাদের ‘দক্ষ লোকের অভাব’ দেখিয়ে এই কাজ করতে অস্বীকার করে।

এই পরিস্থিতিতে বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ এবার দিলীপ শেঠ কমিটির বিরুদ্ধে তদন্তের দায়িত্ব কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG) বা ক্যাগ-কে দিতে চায়। ক্যাগ এই কাজ করতে পারবে কিনা, সে বিষয়ে আগামী সপ্তাহে কেন্দ্রীয় সরকারকে জানাতে হবে।

কমিটির আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, “তদন্ত হোক, কিন্তু সেটাকে ফরেনসিক অডিট বলে যেন উল্লেখ করা না-হয়। একজন বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটি চলছে। ফরেনসিক অডিট বলা হলে তার অন্য রকম বার্তা যাবে।” তবে আদালত এই বক্তব্য খারিজ করে দেয়।

AI ব্যবহারে আপত্তি এবং হাইকোর্টের ক্ষোভ
রোজভ্যালির টাকা ফেরানোর ক্ষেত্রে ওয়েববেলের (Webel) প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে এদিনও ইডি (ED)-র তরফে আপত্তি জানানো হয়। এই আপত্তিতে সায় দেয় বিচারপতি শেঠ কমিটি। ইডি-র তরফে দাবি, এই কাজের জন্য ওয়েবল অযোগ্য। তাই তারা বাইরের কোম্পানিকে সেই কাজে লাগানোর অনুমতি পেতে লিখিত আবেদন করে। রোজভ্যালি কোম্পানির আইনজীবী অবশ্য সেই আবেদনে আপত্তি জানান।

বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়:

“একটা কমিটির জন্য (তালুকদার কমিটি) ওয়েবেল খুব ভালো কাজ করেছে। তার নথি আছে। আর আপনাদের কমিটির অভিযোগ, ওয়েবল ভালো কাজ করছে না। তাই তারা বাইরের কোম্পানিকে দিয়ে কাজ করাতে চায়। ওই সংস্থাকে এই কাজ করার টাকা কে দেবে? কমিটি কী করে দেবে? তাদের টাকা নেই।”

আদালত আরও কঠোরভাবে বলে, “আর আমানতকারীদের ভাঁড়ার থেকে কেন ওই কাজের জন্য টাকা খরচ হবে? কেন্দ্রীয় সরকারকে টাকা দিতে বলুন তাহলে। কোনোভাবেই তাদের জন্য ১০ কোটি টাকাও যদি খরচ হয়, সেটাও আমানতকারীদের অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া যাবে না।”

অন্যদিকে, অ্যালকেমিস্ট সংস্থার বিরুদ্ধে প্রায় আট লক্ষ আবেদনকারীর থেকে এক হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা প্রতারণা করে বাজার থেকে তোলার অভিযোগ রয়েছে। হাইকোর্ট অ্যালকেমিস্ট গ্রুপের অধীনে মোট কতগুলি সংস্থা ও তাতে কত টাকা লগ্নি করা হয়েছে, তার হিসেব চেয়েছে।

মামলার পরবর্তী শুনানি ১৯ নভেম্বর, ওই দিনই সিবিআই (CBI) আলাদা করে তাদের বক্তব্য জানাবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy