নিজেকে ভাবা পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রের (BARC) একজন বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচয় দিয়ে সম্প্রতি গ্রেপ্তার হয়েছেন আখতার কুতুবুদ্দিন হোসেইনি আহমেদ ওরফে আলেকজান্ডার পামার নামে এক ব্যক্তি। মুম্বই পুলিশ তাঁর কাছ থেকে সন্দেহজনক পারমাণবিক তথ্য এবং এক ডজনেরও বেশি মানচিত্র উদ্ধার করেছে। বাজেয়াপ্ত করা নথিগুলি এখন পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে যে এতে কোনও সংবেদনশীল বা গোপনীয় পারমাণবিক তথ্য আছে কি না।
বিদেশী সংগঠনের সঙ্গে যোগের সন্দেহ:
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশের সন্দেহ—আখতার বিদেশী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, যা সন্দেহভাজন পারমাণবিক তথ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আখতার গত কয়েক মাসে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক নম্বরে ফোন করেছিলেন, সেই কল রেকর্ডগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মুম্বই পুলিশ ক্রাইম ব্রাঞ্চের ক্রাইম ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (CIU) গত ১৭ অক্টোবর ৬০ বছর বয়সী আখতারকে ভুয়ো বিজ্ঞানী সেজে একাধিক ভুয়ো পরিচয়ে বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে।
‘মৃত’ ঘোষিত ভাইও গ্রেপ্তার:
দুই দিন আগেই দিল্লি পুলিশ আখতারের ৫৯ বছর বয়সী ভাই আদিলকেও গ্রেপ্তার করেছে। আখতার এর আগে আদিলকে মৃত বলে জানিয়েছিলেন। আদিলকে একজন বিদেশী পারমাণবিক বিজ্ঞানীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে গুপ্তচরবৃত্তির কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
জাল পাসপোর্ট চক্রের সন্ধান:
আখতারকে গ্রেপ্তারের পর তদন্তে পুলিশ ভুয়ো পাসপোর্ট চক্রের জড়িত থাকার সন্দেহ করছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের মুনাজ্জিল খান আখতারের ভাইয়ের জন্য দু’টি জাল পাসপোর্ট তৈরি করেছিলেন জামশেদপুরের আজাদনগরে তাঁদের পৈতৃক বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করে, যে সম্পত্তিটি প্রায় ৩০ বছর আগে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, ১৯৯৫ সালে বাবার মৃত্যুর পর বাড়ি বিক্রি করে আখতার জাল পাসপোর্ট তৈরি করেছিলেন। উভয় ভাই এই জাল পরিচয়পত্র (যেমন—হুসেইনি মহম্মদ আদিল এবং নাসিমুদ্দিন সৈয়দ আদিল হুসেইনি) ব্যবহার করে বিদেশ ভ্রমণ করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
আখতারকে বর্তমানে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে এবং আদিলকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিআইইউ আধিকারিকরা আলি রাজা হুসেনের নামে একাধিক জাল পাসপোর্ট, আধার এবং প্যান কার্ড এবং জাল BARC-এর পরিচয়পত্র বাজেয়াপ্ত করার পর আখতারকে গ্রেপ্তার করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ২০০৪ সালে গোপন নথিপত্র থাকার মিথ্যে দাবি করার জন্য তাঁকে দুবাই থেকে নির্বাসিত করা হয়েছিল।





