আবহাওয়ার বদল শুরু হয়েছে রাজ্যে। সকালে হালকা গরম থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে শীতের স্পর্শ অনুভব করছেন বীরভূমের বাসিন্দারা। এহেন মনোরম আবহাওয়ায় দূরদূরান্তের পর্যটকেরা বীরভূম ভ্রমণের জন্য ভিড় জমাতে শুরু করেছেন, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোলপুর শান্তিনিকেতন।
বর্তমানে শান্তিনিকেতনের অন্যতম জনপ্রিয় আকর্ষণ হলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত স্থান এবং সোনাঝুরির হাট। তবে অনেকেই জানেন না, শান্তিনিকেতনে রয়েছে এমন একটি বাড়ি, যা সম্পূর্ণ গাছগাছালি আর ফুলে আবৃত—যার নাম ‘দক্ষিণ হাওয়া বাংলো’।
ফুলে ঢাকা এক বাংলো:
বোলপুর শান্তিনিকেতনের এই ‘দক্ষিণ হাওয়া’ বাংলো বাড়িটি সিমেন্ট, বালি, পাথর দিয়ে তৈরি হলেও বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে যেন সবুজের মাঝে এক রঙের উৎসব। বাংলোটির বাগান জুড়ে রয়েছে শতাধিক প্রজাতির চন্দ্রমল্লিকা এবং ৩০-৪০ প্রজাতির কাগজ ফুল। সব মিলিয়ে ফুলের সংখ্যা প্রায় কয়েকশো।
দক্ষিণ হাওয়া এখন শান্তিনিকেতনের অন্যতম আকর্ষণ। এটি শুধুমাত্র একটি বাংলো বাড়ি নয়, বরং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব নিদর্শন, যা তার বিভিন্ন ধরনের ফুল, ফল এবং গাছের সমাহারে পর্যটকদের মন মুগ্ধ করে।
যে কারণে প্রবেশ নিষেধ:
যদিও বাংলোটি পর্যটকদের কাছে দারুণ আকর্ষণীয়, তবে এই ফুলবাড়ির ভেতরে কোনও পর্যটকের প্রবেশের ছাড় নেই। পর্যটকদের বাইরে থেকেই এই বাড়ির সৌন্দর্য উপভোগ করতে হয়। ফুল ও গাছপালার আধিক্যের কারণে ভেতরের ছবি দেখতে অনেককেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে জুম করে দেখতে হয়।
শীতের আবহাওয়ায় শান্তির অনুভূতি এবং প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাওয়ার অনুভব উপলব্ধি করতে দূর দূরান্ত থেকে বহু পর্যটক এখানে ছুটে আসছেন। ফুলের বাণিজ্যের জন্য বিখ্যাত বীরভূমের এই ‘দক্ষিণ হাওয়া’ বাংলো যেন এক বিশেষ প্রাকৃতিক উপহার।





