১০০ দিনের কাজে বকেয়া নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য তরজা তুঙ্গে! হিসেবের খাতায় ৯১৭ কোটির ‘গরমিল’, অসন্তোষ নবান্নের

১০০ দিনের কাজ (মনরেগা) প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া অর্থ নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। হিসেবের খাতায় দুই সরকারের তথ্যে রয়েছে বিশাল পার্থক্য।

বকেয়ার অঙ্ক নিয়ে বিপুল ফারাক:

রাজ্যের দাবি: রাজ্যের হিসেব অনুযায়ী বকেয়া অর্থের পরিমাণ ৬ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা।

কেন্দ্রের তথ্য: কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের এনআরইজিএ সফট পোর্টালে এই অঙ্ক দেখানো হয়েছে মাত্র ৬ হাজার ২ কোটি টাকা।

গরমিল: দু’পক্ষের মধ্যে বকেয়ার অঙ্কে ৯১৭ কোটি টাকার বিপুল ফারাক দেখা যাচ্ছে, যা নিয়ে রাজ্যের তরফে তীব্র আপত্তি জানানো হয়েছে।

রাজ্যের অভিযোগ ও পঞ্চায়েত মন্ত্রীর ক্ষোভ:

নবান্নের এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে মনরেগা আইনের ২৭ নম্বর ধারা কার্যকর করে শ্রমদিবস মঞ্জুরের প্রক্রিয়াও বন্ধ রাখা হয়েছে।

রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার কেন্দ্রের এই আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন:

“দুরভিসন্ধির যেমন অভাব নেই, তেমনই এত দিনের ধৈর্য্যও আজ পরীক্ষা দিচ্ছে।”

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, রাজ্য প্রতিটি পয়সার হিসেব কেন্দ্রীয় দফতরের হাতে তুলে দেওয়ার পরেও ৯১৭ কোটি টাকা কম দেখানোর পিছনে কোনও চক্রান্ত নেই তো!

তিনি কেন্দ্রের পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

অর্থবর্ষ ধরে হিসেবের পার্থক্য:

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিভিন্ন অর্থবর্ষেও এই পার্থক্য স্পষ্ট।

২০২১-২২ অর্থবর্ষ: কেন্দ্র বলছে রাজ্যের প্রাপ্য ৪,৩৬০ কোটি টাকা (মজুরি ১,৯১৬ কোটি + উপকরণ ৩,২৫৮ কোটি)। অথচ, রাজ্যের হিসেবে মোট প্রাপ্য ৫,২৭৪ কোটি টাকা (মজুরি ২,৮৭৪ কোটি + উপকরণ ২,৪০০ কোটি)। এখানেই ফারাক ৯১৪ কোটি টাকার।

২০২২-২৩ অর্থবর্ষ: এই অর্থবর্ষেও রাজ্য ও কেন্দ্রের হিসেবের মধ্যে তিন কোটি টাকার পার্থক্য রয়েছে।

৬৯ লক্ষ জবকার্ডধারীর মজুরি:

দীর্ঘদিন ধরে টাকা না মেলায় রাজ্যের ৬৯ লক্ষ জবকার্ডধারীর মজুরি রাজ্য সরকার নিজেদের কোষাগার থেকেই মিটিয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, প্রশ্ন উঠছে— রাজ্যের প্রাপ্য টাকা কি কেন্দ্র ইচ্ছাকৃত কমিয়ে দেখিয়ে বাংলার অধিকার খর্ব করতে চাইছে?

সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিলমোহর দিয়ে ১০০ দিনের কাজ দ্রুত চালুর পথ প্রশস্ত করলেও, রাজ্যের বকেয়া অর্থ দ্রুত মিলবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই পরিস্থিতিতে গোটা রাজ্য প্রশাসন এখন শীর্ষ আদালতের পরবর্তী রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।