৫০০ টাকার মাইনে থেকে সুপারস্টার! কোরিওগ্রাফার ছাড়াই নাচের ধামাকা, ভারত কেন তাঁকে বলত ‘জংলী’ ও ‘এলভিস’?

আজ ২১শে অক্টোবর, ভারতীয় সিনেমার এক কিংবদন্তী, যার নাচের ভঙ্গি দেখে গোটা দেশ মেতে উঠত, সেই শাম্মী কাপুরের জন্মদিন। ১৯৩১ সালের এই দিনেই তিনি জন্মেছিলেন। বলিউডে যিনি ‘ভারতের এলভিস প্রেসলি’ নামে পরিচিত ছিলেন এবং যাঁর নাচের জন্য কোনও কোরিওগ্রাফারের প্রয়োজন হতো না, সেই শাম্মী কাপুরের বর্ণময় জীবন আজও এক রহস্যে মোড়া।

দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি এমন এক বিরল কাজ করেছিলেন, যা আগে বা পরে খুব কম তারকাই করেছেন। তিনি এমন এক নায়িকার বাবার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন, যার সঙ্গে এক সময় পর্দায় জমিয়ে প্রেম করেছিলেন!

প্রেমিকার বাবা হওয়া: যে ঘটনা তাক লাগিয়ে দিয়েছিল
১৯৬১ সালের সুপারহিট ছবি ‘জংলী’-তে সাইরা বানুর বিপরীতে প্রথম বড় ব্রেক পান শাম্মী কাপুর। পর্দায় তাঁদের প্রেম রসায়ন তুমুল জনপ্রিয় হয়। এরপর ‘ব্লাফ মাস্টার’-এও তাঁরা রোম্যান্টিক জুটি হিসেবে কাজ করেন।

কিন্তু এর ঠিক এক দশক পরে, ১৯৭৪ সালের ছবি ‘জমীর’-এ তিনি সেই সাইরা বানুর বাবার চরিত্রে অভিনয় করেন! এর থেকেও চমকপ্রদ ছিল তাঁর আর একটি চরিত্র। ‘পারভারিশ’ ছবিতে তিনি অমিতাভ বচ্চনের বাবার ভূমিকায় অভিনয় করেন, যদিও দুজনের বয়সের পার্থক্য ছিল মাত্র ১৫ বছর! প্রথাগত ধারণাকে ভেঙে দেওয়ার এই ক্ষমতা শাম্মী কাপুরকে অন্যান্য অভিনেতাদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল।

মাইনে ছিল মাত্র ₹৫০: তারকার সংগ্রাম
আজকের দিনের মতো বাবার পরিচয়ে তাঁর তারকা হওয়া সহজ ছিল না। বিখ্যাত অভিনেতা পৃথ্বীরাজ কাপুরের ছেলে হওয়া সত্ত্বেও, শাম্মী কাপুর সাধারণ একজন শিল্পী হিসেবে পৃথ্বী থিয়েটারে কাজ শুরু করেন। তাঁর প্রথম মাসিক মাইনে ছিল মাত্র ৫০ টাকা। চার বছর কঠোর পরিশ্রমের পর ১৯৫২ সালে যখন তিনি নতুন কাজের সন্ধানে যান, তখন তাঁর মাইনে বেড়ে হয় ৩০০ টাকা। দীর্ঘদিন স্ট্রাগল করার পরই ব্লকবাস্টার হিট ছবির মাধ্যমে তিনি সাফল্যের শিখরে পৌঁছান। তাঁর শেষ রোম্যান্টিক লিড হিসেবে ছবি ছিল ১৯৭১ সালের ‘আন্দাজ’। এরপর তিনি ‘জমীর’, ‘হিরো’, ‘বিধাতা’, ‘হুকুমত’, ‘বণ্টওয়ারা’, ‘তেহেলকা’, ‘চমৎকার’, ‘নমক’ এবং ‘প্রেম গ্রন্থ’-এর মতো ছবিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন।

কোরিওগ্রাফার ছাড়াই নাচের জাদু
কেবল একজন অভিনেতা নন, শাম্মী কাপুর ছিলেন একজন অসাধারণ নৃত্যশিল্পী, যিনি ভারতবাসীকে নাচের নতুন ভাষা শিখিয়েছিলেন। তাঁর প্রাণবন্ততা এবং উদ্যম ছিল তাঁর ট্রেডমার্ক। ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে বেশিরভাগ তারকাই মঞ্চে বা ক্যামেরার সামনে নাচের দৃশ্যে স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। কিন্তু শাম্মী কাপুর সেই প্রথা ভেঙে দেন। তিনি কোরিওগ্রাফার ছাড়াই নিজের নাচের স্টেপ নিজেই আবিষ্কার করতেন, যা পরবর্তীতে কিংবদন্তী হয়ে ওঠে। তাঁর স্টাইল এবং তাঁর বিশেষ হেয়ারস্টাইলের জন্যই তাঁকে ‘ভারতের এলভিস প্রেসলি’ নামে ডাকা হতো।

তিনি শেষবার পর্দায় এসেছিলেন তাঁর নাতি রণবীর কাপুরের হিট ছবি ‘রকস্টার’-এ।

সিনেমার বাইরেও এক পরিচয়: ভারতের প্রথম ইন্টারনেট গুরু
সময়ের থেকে সব সময় এগিয়ে থাকা শাম্মী কাপুরের আগ্রহ শুধুমাত্র সিনেমার জগতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ইন্টারনেট যখন ভারতে নতুন, তখন তিনি ছিলেন তা গ্রহণ করা প্রথম তারকাদের মধ্যে একজন। তিনি ‘ইন্টারনেট ইউজার্স কমিউনিটি অফ ইন্ডিয়া’-র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও ‘এথিক্যাল হ্যাকার্স অ্যাসোসিয়েশন’ গঠনেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কাপুর পরিবারের সদস্যদের আপডেট এবং ভক্তদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য তিনি নিজের হাতে একটি ডেডিকেটেড ওয়েবসাইটও তৈরি করেছিলেন।