দীপাবলির পবিত্র উৎসবে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই চিঠিতে তিনি দেশের বড় সাফল্য এবং জনগণের প্রতি কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর চিঠিতে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্যের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি লেখেন, “প্রভু শ্রীরাম আমাদের মর্যাদা পালন করতে শেখান এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শিক্ষাও দেন। আমরা সম্প্রতি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও তা দেখেছি। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারত মর্যাদা পালন করে অন্যায়ের জবাবও দিয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরির পর এটি দেশের দ্বিতীয় দীপাবলি। তাঁর মতে, এবারকার দীপাবলির বিশেষত্ব হলো, দেশের অনেক প্রত্যন্ত জেলা ও এলাকায় প্রথমবারের মতো প্রদীপ জ্বলেছে, যেখানে আগে নকশালবাদ ও মাওবাদী সন্ত্রাস ছিল, যা এখন নির্মূল করা হয়েছে। তিনি এটিকে দেশের একটি বড় সাফল্য বলে উল্লেখ করেছেন।
জিএসটি কমানোয় সাশ্রয় হাজার হাজার কোটি টাকা
দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে মোদী লেখেন, সম্প্রতি দেশে ‘নেক্সট জেনারেশন সংস্কার’ শুরু হয়েছে। নবরাত্রির আগে জিএসটি-র হার কমানো হয়েছে, যার ফলে দেশবাসীর হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন, বিশ্বের নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে ভারত স্থিতিশীলতা ও সংবেদনশীলতার প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে এবং আগামী দিনে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার পথে এগোচ্ছে।
নাগরিকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ৫টি বিশেষ আবেদন
‘বিকশিত ও আত্মনির্ভর ভারত’-এর এই যাত্রায় একজন নাগরিক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশবাসীর প্রতি নিম্নলিখিত কর্তব্য পালনের আহ্বান জানিয়েছেন:
১. স্বদেশী পণ্য গ্রহণ: স্বদেশী জিনিস ব্যবহার করতে হবে এবং গর্বের সঙ্গে বলতে হবে ‘এটা স্বদেশী’। ২. এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত: ‘এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত’ ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং সব ভাষার প্রতি সম্মান জানাতে হবে। ৩. স্বাস্থ্য অগ্রাধিকার: খাবারে তেলের পরিমাণ ১০ শতাংশ কমাতে হবে এবং যোগব্যায়ামকে আপন করতে হবে। ৪. পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। ৫. সমাজে সম্প্রীতি, সহযোগিতা এবং ইতিবাচকতার প্রদীপ জ্বালানো।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর চিঠির শেষে এই সমস্ত প্রচেষ্টা দেশকে আরও দ্রুত বিকশিত ভারতের দিকে নিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।





