যষ্টিমধু একটি বহুবর্ষজীবী গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ, যা বহু প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ঐতিহ্যগত ব্যবহারের ধারাবাহিকতায় আধুনিককালের গবেষকরাও যষ্টিমধুর ঔষধি গুণাগুণের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন এবং বিভিন্ন গবেষণায় এর কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।
আলসার, যকৃতের বিভিন্ন সমস্যা, মৃগী রোগ এবং এমনকি যৌন রোগের নিরাময়েও যষ্টিমধু কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যষ্টিমধুর প্রধান কার্যকর রাসায়নিক উপাদানটি হলো ট্রাইতারপিনয়েড স্যাপোনিন গ্লিসাইরিজিন (গ্লিসাইরিজিনিক এসিডের পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম লবণের মিশ্রণ)। এছাড়াও এই উদ্ভিদে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক উপাদান বিদ্যমান। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গ্লাবরানিন এ ও বি, গ্লিসাইরেটল, গ্ল্যাবরোলাইড, আইসোগ্ল্যারোলাইড নামক ট্রাইতারপিনয়েড স্যাপেনিন; ফরমোনোনেটিন, গ্ল্যাবরোন, নিওলিকুইরিটিন, হিসপা-গ্ল্যাবরিডিন এ ও বি নামক আইসোফাবন; হারনিয়ারিন, আম্বিলিফেরন নামক কৌমারিন এবং আনোসেরিন, এমাইরিন, স্টিগমাস্টেরল নামক ট্রাইতারপিন স্টেরল ইত্যাদি।
এই উপাদানগুলোর সম্মিলিত প্রভাবে যষ্টিমধু বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করে বলে ধারণা করা হয়। তবে এর সম্পূর্ণ কার্যকারিতা এবং ব্যবহারের সঠিক মাত্রা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।