কোটি টাকার ক্ষতি! দীপাবলির দিনেই ফতেপুরের বাজি বাজারে ভয়াবহ আগুন, ভস্মীভূত ৭০টি দোকান

উৎসবের মরশুমে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হলো উত্তরপ্রদেশের ফতেপুর। দীপাবলির দিন সোমবার দুপুরে এমজি কলেজ মাঠে অবস্থিত আতসবাজি বাজারে ভয়াবহ আগুন লেগে অন্তত ৬৫ থেকে ৭০টি দোকান সম্পূর্ণরূপে ভস্মীভূত হয়েছে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কোটি কোটি টাকার আতসবাজি এক ঝলকেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

আগুনের সূত্রপাত:

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, দুপুর ১২:৩০টা নাগাদ একটি আতসবাজির দোকানে শর্ট-সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এই দোকানগুলিতে প্রচুর পরিমাণে আতসবাজি মজুত থাকায় আগুন মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র উত্তেজনা ও আতসবাজির বিস্ফোরণের শব্দে পুরো বাজারে এক চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং ধোঁয়ার ঘন কুয়াশা পুরো এলাকা ঢেকে ফেলে।

চিফ ফায়ার অফিসার জইবীর সিং জানিয়েছেন, মাত্র ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে পুরো বাজার আগুনে আচ্ছন্ন হয়ে যায়। তিনি বলেন, “৬৫-৭০টি দোকান এবং দুই ডজনেরও বেশি দু’চাকার যানবাহন সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে। তবে সৌভাগ্যক্রমে কোনও প্রাণহানি ঘটেনি।”

ব্যবসায়ীদের তীব্র ক্ষোভ:

যদিও ফতেপুর ফায়ার স্টেশন মাত্র ২০০ মিটার দূরে অবস্থিত, তবুও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন যে, ফায়ার টেন্ডার ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় ২০ মিনিট সময় নেয়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী সতীশ জানান, “বাজারটি মাত্র আধা ঘণ্টা আগে চালু হয়েছিল। ১৫ মিনিটের মধ্যেই সব ধ্বংস হয়ে গেল। আমরা কেবল আমাদের জীবন রক্ষা করতে পেরেছি।” অন্য এক দোকানীর অভিযোগ, ৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন, যা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। বিজেপি জেলা সভাপতি মুখলাল পালও ফায়ার টেন্ডারের বিলম্বের জন্য দায়িত্বজ্ঞানহীনতার প্রশ্ন তুলেছেন।

ফতেপুরের এসপি অনুপ কুমার সিং বলেন, “এপর্যন্ত কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। আগুনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দায়িত্বহীনদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দ্রুত সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy