শুধু হাঁটলেই হবে না! মেদ ঝরাতে এই ব্যায়ামগুলো জানুন একনজরে

ওজন কমাতে এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার কদম হাঁটার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। অর্থাৎ দৈনিক এক ঘণ্টা হাঁটলে মেদ ঝরা দ্রুত হয়, এমনটাই ধারণা অনেকের। তবে জানেন কি? প্রতিদিন শুধু এক ঘণ্টা হাঁটলেই আপনার দৈনিক শরীরচর্চার রুটিন সম্পূর্ণ হয় না।

ভারতীয় ফিটনেস বিশেষজ্ঞ বিনোদ চানা, যিনি শিল্পা শেঠি, জন আব্রাহাম, শমিতা শেঠি এবং জেনেলিয়া দেশমুখের মতো বহু বলিউড তারকার ফিটনেস প্রশিক্ষক, তার মতে শরীরকে সম্পূর্ণরূপে কর্মক্ষম রাখতে কেবল হাঁটার পাশাপাশি আরও কিছু ব্যায়াম করা প্রয়োজন।

বিনোদ চানা জোর দিয়ে বলেন, প্রতিদিন নিয়ম করে ১০ হাজার কদম হাঁটা শরীরের জন্য অবশ্যই জরুরি। তবে এর পাশাপাশি অন্যান্য শারীরিক কার্যকলাপও প্রয়োজন। তিনি দৈনন্দিন জীবনে হাঁটার পরিমাণ বাড়ানোর জন্য কিছু সহজ টিপস দিয়েছেন। যেমন, অফিস থেকে কিছুটা দূরে গাড়ি পার্ক করে হেঁটে যাওয়া এবং লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও, যারা দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করেন, তাদের প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর ছোট বিরতি নিয়ে কিছুক্ষণ হেঁটে আসার কথা বলেছেন এই ফিটনেস বিশেষজ্ঞ।

বিনোদ চানার মতে, কেবল ১০ হাজার কদম হাঁটলেই দৈনিক শরীরচর্চার চাহিদা পূরণ হয় না। এর সাথে শরীরের বিভিন্ন পেশীকে সক্রিয় রাখতে এবং সামগ্রিক ফিটনেস উন্নত করতে আরও কিছু ব্যায়াম যোগ করা উচিত। তিনি জোর দেন স্ট্রেংথ ট্রেনিং, ফ্লেক্সিবিলিটি এক্সারসাইজ এবং কার্ডিওভাস্কুলার ওয়ার্কআউটের উপর।

স্ট্রেংথ ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে শরীরের পেশী শক্তিশালী হয়, যা মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে এবং ওজন কমাতে সহায়ক। ফ্লেক্সিবিলিটি এক্সারসাইজ শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি করে এবং আঘাতের ঝুঁকি কমায়। অন্যদিকে, হাঁটা একটি ভালো কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম হলেও, আরও তীব্র কার্ডিও যেমন দৌড়ানো, সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানো হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং শরীরের সামগ্রিক সহনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে।

তাই, যদি আপনি সত্যিই মেদ ঝরাতে এবং একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম শরীর পেতে চান, তাহলে প্রতিদিনের ১০ হাজার কদম হাঁটার অভ্যাসের পাশাপাশি আপনার রুটিনে বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম অন্তর্ভুক্ত করুন। একজন ফিটনেস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে আপনার শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী একটি সুষম শরীরচর্চার পরিকল্পনা তৈরি করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy