প্রেমের ফাঁদ পেতে চাকরির নামে প্রতারণা! তরুণীর কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে মালদায় গা ঢাকা, অবশেষে গ্রেফতার ‘প্রেমিক’

সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাপ, তারপর ঘনিষ্ঠ প্রেমের সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে প্রেমিকাকে সরকারি চাকরি করে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত ওই তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে মালদা থেকে গ্রেফতার হলো অভিযুক্ত যুবক।
কীভাবে প্রতারণার ফাঁদ পাতা হলো?
জানা গিয়েছে, কলকাতার বাসিন্দা এক তরুণীর সঙ্গে প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাপ হয় অভিযুক্ত যুবক অসীম সরকার-এর। ধীরে ধীরে দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে অসীম তরুণীকে সরকারি দফতর সহ একাধিক বহুজাতিক সংস্থায় চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেয়।
অসীম নিজেকে বিভিন্ন সরকারি দফতরের যোগাযোগ কর্মকর্তা এবং বহু বেসরকারি সংস্থায় নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসাবে পরিচয় দিত। এই লোভনীয় প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে তরুণী ধাপে ধাপে অসীমের কাছে কয়েক লাখ টাকা তুলে দেন।
মালদা থেকে গ্রেফতার ‘প্রেমিক’
দীর্ঘদিন কেটে যাওয়ার পরও যখন চাকরির কোনও নামগন্ধ পাওয়া যায়নি, তখন তরুণীর সন্দেহ হয়। তিনি অসীমকে চাপ দিতে শুরু করলে অসীম তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেয়। বুঝতে পেরে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তরুণী বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সক্রিয় হয় এবং মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে অসীমের সন্ধান পায়। বৃহস্পতিবার মাঝরাতে মালদা জেলার চাঁচল ১ নম্বর ব্লকের দক্ষিণ পাড়া এলাকা থেকে এই প্রতারক যুবককে গ্রেফতার করে বারাসত থানার পুলিশ।
ধৃতের পরিচয়: ধৃত যুবকের নাম অসীম সরকার। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সে চাঁচলের স্থায়ী বাসিন্দা নয়। কয়েক মাস আগে দক্ষিণ পাড়ার একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করত।
এলাকাবাসীর তথ্য: স্থানীয়রা জানান, অসীমকে এলাকায় প্রায় দেখাই যেত না। রাতে বাড়িতে আসতেন, আর সকাল হলে বেরিয়ে যেতেন। তিনি কী করতেন, তা কেউ জানতেন না এবং কারও সঙ্গে তিনি তেমন কথাবার্তাও বলতেন না।
শুক্রবার ভোরে অসীম সরকারকে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে পুলিশ। জেলা পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, বারাসত থানার পুলিশ চাঁচল থানার পুলিশের সাহায্য চাইলে তা করা হয়েছে।