পচা মাংসের নাম করে আমিষ খাবারে নিষেধাজ্ঞা? রেস্তোরাঁয় অভিযানের নেপথ্যে কোন গভীর ষড়যন্ত্র?

দুর্গাপুজোর মতো সর্বজনীন উৎসবে বাঙালি কী খাবে আর কী খাবে না, তা নিয়ে মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধামের প্রধান সন্ত ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম বিতর্কের ঝড় উঠেছে। নবরাত্রি ও দুর্গাপুজোর সময়ে প্যান্ডেলের আশপাশে আমিষ খাবার খাওয়া এবং তা রান্নার কড়া সমালোচনা করে বাগেশ্বর বাবা বলেছিলেন যে বাংলার এই সংস্কৃতি তাঁর একেবারেই পছন্দ নয়। এই মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও আমিষ খাবারের দোকানে একের পর এক প্রশাসনিক অভিযান এবং পচা মাংস উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসতে শুরু করেছে। আর এই পুরো ঘটনাক্রমের নেপথ্যে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক অভিসন্ধি ও গভীর ষড়যন্ত্র দেখছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী দল সিপিএম।

বাম-ডান সব শিবিরেই এই নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ। তৃণমূলের অভিযোগ, সুনির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা চলছে, যার মাধ্যমে বাঙালির আবহমানকালের স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস ও আমিষ প্রীতিতে আঘাত হানার হীন চেষ্টা চালাচ্ছে আরএসএস (RSS) এবং বিজেপি। অন্যদিকে, সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমানের মতে, প্রথমে ভিনরাজ্যের ধর্মীয় প্রচারকদের এনে আমিষ বিরোধী তত্ত্বের বীজ বপন করা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে রেস্তোরাঁগুলিতে হামলার মতো ঘটনা ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে আমিষ খাবারের প্রতি ঘৃণা তৈরি করার সুপরিকল্পিত চক্রান্ত চলছে। এমনকি এই অভিযানের আড়ালে ব্যবসায়ী মহলে ভয় দেখিয়ে আর্থিক তোলার ছক কষা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল।

বিরোধীদের এই সমস্ত বিস্ফোরক অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে গেরুয়া শিবির। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, বাঙালিরা চিরকালই আমিষভোজী এবং তিনি নিজেও সম্প্রতি ইলিশ মাছ খেয়েছেন। তবে আমিষ খাওয়ার অর্থ এই নয় যে সাধারণ মানুষকে পচা মাংস বা ভাগাড়ের বিষাক্ত খাবার খেতে হবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি, বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তৃণমূলের তোলাবাজির তত্ত্বকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা আক্রমণ করে বলেছেন যে, তোলাবাজি ও দুর্নীতির সমার্থক শব্দই হলো তৃণমূল কংগ্রেস, তাই নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এখন তারা এসব অমূলক ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে।