নেপালের হড়পা বানে নিখোঁজ স্ত্রীর সন্ধানে চরম অনিশ্চয়তা! শুভ্রাংশু রায়ের সোশ্যাল মিডিয়ার এই ছবি ঘিরেই তীব্র রহস্য!

নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও মর্মান্তিক হড়পা বানের প্রায় দুই সপ্তাহ অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত নাগালের বাইরেই রয়ে গিয়েছেন বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রী শর্মিষ্ঠা রায়। রাজ্য প্রশাসন, নয়াদিল্লির বিদেশ মন্ত্রক থেকে শুরু করে কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাস—সর্বত্র কড়া নেড়েও এখনও পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক বা আশ্বস্ত করার মতো বার্তা পাননি পরিবারটি। এই দমবন্ধ করা অনিশ্চয়তা এবং চরম উৎকণ্ঠার মাঝেই এবার সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে সস্ত্রীক একটি বিষণ্ণ ‘সাদা-কালো’ ছবি প্রোফাইল পিকচার বা ডিপি হিসাবে আপডেট করেছেন শুভ্রাংশু রায়। আর এই সামান্য বদলকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে গভীর ধোঁয়াশা এবং উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২১ অগাস্ট। হাওড়ার একটি নামী ভ্রমণ সংস্থার ব্যবস্থাপনায় অন্যান্য সহযোগীদের সঙ্গে নেপাল ভ্রমণে পাড়ি দিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা রায়। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ তারিখ রাতেও স্বামীর সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই কথাবার্তা হয়েছিল। কিন্তু পরের দিন অর্থাৎ ২৬ অগাস্ট নেপালের বিভিন্ন প্রান্তে ভয়াবহ হড়পা বান ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসার পর থেকেই আচমকা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় শর্মিষ্ঠার মোবাইল ফোন এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সমস্ত যোগাযোগ মাধ্যম। এরপর থেকেই নিরন্তর আশঙ্কায় টিভির পর্দার সামনে চোখ আটকে রাখেন শুভ্রাংশু রায়। প্রিয়তমা স্ত্রীকে সুস্থভাবে ফিরে পাওয়ার আশায় নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তিনি প্রশাসনের সাহায্য প্রার্থনা করেন।
কন্যা বা স্ত্রীর সন্ধানে ভবানী ভবন থেকে শুরু করে স্থানীয় থানা এবং কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছেন শুভ্রাংশু ও তাঁর পরিবার। উদ্ধার হওয়া সমস্ত পরিচয়হীন মরদেহের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই হাসপাতালেও পরিবারের পক্ষ থেকে ডিএনএ (DNA) নমুনা পাঠানো হয়েছে, যার চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনও হাতে এসে পৌঁছায়নি। এই প্রতীক্ষার প্রহর গোনার মাঝে ফেসবুকের ডিপি-তে হঠাৎ করে ভেসে ওঠা এই শোকাবহ সাদা-কালো ছবি যেন এক চরম দুঃসংবাদেরই ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন তাঁর শুভানুধ্যায়ীরা।