প্রচারের আলো থেকে হাজার মাইল দূরে! অরিজিৎ সিংকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস বন্ধু কাজি তৌকীরের!

সুর এবং গায়কীর জাদুতে গোটা বিশ্বকে মুগ্ধ করে রাখা অরিজিৎ সিং (Arijit Singh) এক চিরন্তন বিস্ময়। তবে গ্ল্যামার এবং খ্যাতির অন্তহীন রোশনাই থেকে একজন মহাতারকা কীভাবে সম্পূর্ণ নিজেকে দূরে সরিয়ে মাটিতে পা রেখে বাঁচতে পারেন, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আরও একবার তুলে ধরলেন তাঁর দীর্ঘদিনের পুরোনো বন্ধু তথা সদ্য ‘বিগ বস ২০’-এর ঘরে পা রাখা কাজি তৌকীর। ২০০৫ সালে জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘ফেম গুরুকুল’-এর মঞ্চে এই দুই প্রতিভার বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। সেই পুরনো দিনের সোনালী স্মৃতি হাতড়ে কাজি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অরিজিৎ সম্পর্কে এমন কিছু চোখ খুলে দেওয়া ও অজানা তথ্য প্রকাশ করেছেন, যা এখন নেটদুনিয়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বন্ধু অরিজিৎকে নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে গিয়ে কাজি তৌকীর স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, শুধুমাত্র নামডাক বা বিখ্যাত হওয়ার লোভে অরিজিৎ কখনও অন্ধের মতো কোথাও ছুটে যাননি বা যাবেনও না। তাঁর নিখাদ ও সরল স্বভাবের প্রশংসা করতে গিয়ে কাজি বলেন, “অরিজিৎ সিং কেবল আমার বন্ধু নয়, ও আমার ভাই এবং পরিবারের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। ওর মনের ভেতরে বিন্দুমাত্র অসততা বা অহংকার নেই, ও ভীষণভাবে সৎ। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কোনো মিডিয়া চ্যানেল কিংবা গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম যদি ওকে কোনো হাই-প্রোফাইল পডকাস্টের জন্য অফার করে, ও সেই লোভনীয় প্রস্তাব সোজা ফিরিয়ে দেবে। কিন্তু অন্যদিকে, কোনো সাধারণ চা-ওয়ালা কিংবা রাস্তার ধাবাওয়ালা এসে যদি ওকে মনের মতো কোনো সরল প্রশ্ন করে, ও হাসিমুখে তার হাতেই নিজের মাইক তুলে দিয়ে নির্দ্বিধায় বলবে, ‘তুমিই বরং এই পডকাস্ট করে নাও’।”

বন্ধুত্বের গভীরতা বোঝাতে গিয়ে কাজি আরও যোগ করেন, “এই গোটা পৃথিবীতে অরিজিৎ সিংয়ের মতো এত সাধারণ এবং খাঁটি মনের মানুষ আর দ্বিতীয়টি নেই, আর ভবিষ্যতেও এমন কেউ আসবে না। ও কোনোদিনই এমন মানুষ নয় যে রাস্তায় বেরোলে কাউকে দেখানোর জন্য স্টারডম ফলিয়ে ভাব নেবে, ‘আমার দিকে তাকাও, আমি অরিজিৎ সিং’।” শুধুমাত্র সুরের জাদুকর হিসেবেই নয়, গানের বাইরেও অরিজিতের বহুমুখী প্রতিভার কথা স্মরণ করে কাজি জানান যে সাধারণ মানুষ কেবল ওর মন জুড়ানো গানই শুনেছে, কিন্তু ওর ভেতরের প্রতিভার পরিধি যে কতটা বিশাল, তা কেবল কাছের মানুষেরাই জানেন। ও আসলে প্রতিভার আস্ত একটা জীবন্ত খনি।

সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে গায়কের নিজের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সময় কাটিয়ে এসেছেন কাজি। সেই স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি জানান, কীভাবে তাঁরা দুজনে জিয়াগঞ্জের রাস্তায় একসঙ্গে স্কুটি চালিয়েছেন এবং স্থানীয় মাঠে ক্রিকেট খেলেছেন। ক্রিকেট খেলার সময় অপ্রত্যাশিতভাবে আঘাত পেয়ে অরিজিৎ চোট পেয়েছিলেন। চারপাশের ভক্ত ও স্থানীয় মানুষ যখন অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে তাঁকে ঘিরে ধরে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “দাদা, আপনি ঠিক আছেন তো?”—তখনও একটুও বিচলিত না হয়ে অরিজিৎ কেবল বলেছিলেন, “সব ঠিক আছে।” কাজি মুগ্ধ হয়ে জানান, গুরুতর আঘাত পাওয়ার পরও মুখ বুজে একটানা আরও তিন-চার ওভার বল করে যান তিনি। এরপর রাতে বিশ্রাম না নিয়ে সাড়ে আটটা থেকে শুরু করে রাত একটা পর্যন্ত একনাগড়ে রেকর্ডিং ও গানের এডিটিংয়ের কাজে ডুবে থাকেন তিনি। কাজির দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা, স্টারডমের অহংকার দূরে সরিয়ে এই নিখাদ মাটির টান আর সঙ্গীতের প্রতি আজীবন অকৃত্রিম ভালোবাসাই অরিজিৎ সিংকে আজকের দিনে সত্যিকারের একজন ‘চ্যাম্পিয়ন’ বানিয়ে রেখেছে।