‘এটা প্রাপ্য, অনুগ্রহ নয়’! কেন্দ্র-রাজ্য তরজার মধ্যেই পঞ্চায়েত খাতে ₹৬৮০ কোটি পেল বাংলা, তৃণমূলের কড়া কটাক্ষ

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের মাঝেই অবশেষে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের (West Bengal Government) জন্য তহবিল পাঠালো কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েতিরাজ মন্ত্রক। রাজ্যের গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য এই অর্থ চলতি অর্থবর্ষের ‘সংযুক্ত (মৌলিক) অনুদান’ খাতের প্রথম কিস্তি হিসেবে ৬৮০ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

বুধবার, অর্থাৎ ৬ অক্টোবর, পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তহবিল দেওয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

কোথায় পৌঁছবে এই বিপুল অর্থ?
কেন্দ্রীয় মন্ত্রক সূত্রে খবর, এই অর্থ রাজ্যের ৩,২২৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ৩৩৫টি পঞ্চায়েত সমিতি এবং ২১টি জেলা পরিষদে পৌঁছবে। গ্রামীণ উন্নয়ন ও পঞ্চায়েত অবকাঠামোকে শক্তিশালী করাই এই তহবিলের মূল লক্ষ্য।

পঞ্চায়েতিরাজ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, এই অনুদানের অর্থ কীভাবে ব্যবহার হবে, তা নির্ধারণের স্বাধীনতা থাকবে প্রতিটি স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্থার হাতে। মূলত রাস্তা ও ফুটপাথ নির্মাণ, পথবাতি বসানো, খেলার মাঠ তৈরি কিংবা গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো প্রকল্পে এই তহবিল খরচ করা যাবে।

রাজ্যের বার্তা: ‘এটা প্রাপ্য, অনুগ্রহ নয়’
বরাদ্দ এলেও রাজ্যের শাসকদলের ক্ষোভ কমছে না। রাজ্যের এক পঞ্চায়েত দপ্তরের আধিকারিক এই অর্থ প্রসঙ্গে বলেন, “এটা নতুন কোনও বরাদ্দ নয়, রাজ্যের প্রাপ্য অর্থই এখন দেওয়া হচ্ছে। বরং আরও আগেই এই তহবিল দেওয়া উচিত ছিল কেন্দ্রের।”

শাসকদল তৃণমূলও কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে বলছে, “এটি রাজ্যের পাওনা, কেন্দ্রের উপহার নয়।”

পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের আওতায় গত ও বর্তমান অর্থবর্ষ মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ এখন পর্যন্ত মোট ৪১৮১ কোটি ২৩ লক্ষ টাকার অনুদান পেয়েছে। তবে এই অনুদানের পরেও রাজ্যের ক্ষোভ কমছে না। অভিযোগ, ১০০ দিনের কাজ ও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ কেন্দ্র আটকে রেখেছে। এই নিয়ে আদালতেও মামলা হয়েছে।