‘মিনি মালদ্বীপ’ তৈরির আগেই বাগড়া! পূর্ত বিভাগের প্রাক্তন প্রধানের বাড়িতে ১৭ টন মধু, ₹৪ কোটি সোনা-নগদ উদ্ধার

মধ্যপ্রদেশের পূর্ত বিভাগের প্রাক্তন হেড ইঞ্জিনিয়ার গোবিন্দপ্রসাদ মেহরার (Govindprasad Mehra) স্বপ্ন ছিল ভোপালে একটি ‘মিনি মালদ্বীপ’-এর আদলে রিসর্ট তৈরি করার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূর্ণ হওয়ার আগেই আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির অভিযোগে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালাল লোকায়ুক্ত পুলিশ। লোকায়ুক্তের তল্লাশিতে মেহরার একাধিক ঠিকানা থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি, নগদ টাকা, সোনাদানা এবং চক্ষু চড়কগাছ করে দেওয়া মতো ১৭ টন মধু উদ্ধার করা হয়েছে।

কোটি টাকার সম্পত্তি: নগদ, সোনা ও মধু!
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ত দফতর থেকে অবসর নেওয়া মেহরার ভোপাল, গোবিন্দপুর, নর্মদাপুরম সহ মোট চারটি ঠিকানায় তল্লাশি অভিযান চালান লোকায়ুক্তের ডিজিপি যোগেশ দেশমুখ। উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির কিছু অংশ নিম্নরূপ:

নগদ টাকা: ভোপালের ওপাল রিজেন্সি থেকে প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা এবং মণিপুরম কলোনির বাড়ি থেকে ৮.৭৯ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে।

সোনা ও রুপো: উদ্ধার হয়েছে ২ কেজি ৬৪৯ গ্রাম সোনা (আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ৫ লক্ষ টাকা) এবং ৫ কেজি ৫২৩ গ্রাম রুপো (আনুমানিক মূল্য ৫ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা)।

মণিরাম কলোনির বাড়ি: অত্যন্ত অভিজাত এলাকায় অবস্থিত এই বাড়ি থেকে ৫০ লক্ষ টাকার সোনা-রুপোর গয়না, ৫৬ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট এবং অন্যান্য সামগ্রী মিলেছে।

কিন্তু সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, মেহরার বিভিন্ন ঠিকানা থেকে মোট ১৭ টন মধু উদ্ধার করা হয়েছে।

নির্মীয়মাণ ‘মিনি মালদ্বীপ’ রিসর্টের সন্ধান
নর্মদাপুরমের সাইনি গ্রামে মেহরার মালিকানায় একটি নির্মীয়মাণ রিসর্টের সন্ধান পেয়েছে লোকায়ুক্ত পুলিশ। এটি ‘মিনি মালদ্বীপের’ আদলে একটি সম্পূর্ণ নিভৃতাবাস হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছিল।

সেখানে ৭টি তৈরি কটেজ এবং ৩২টি নির্মীয়মাণ কটেজের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ২টি বিশাল জলাশয়। উদ্ধার হওয়া অন্যান্য সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে:

বিপুল পরিমাণে কৃষিজমি

৬টি বহুমূল্যের ট্রাক্টর সহ কৃষি সরঞ্জাম

২টি গোয়াল এবং ২টি মৎস্যচাষের জায়গা

এছাড়া গোবিন্দপুরে একটি পিভিসি পাইপ তৈরির কারখানা (‘কেজি ইন্ডাস্ট্রিজ’)-এর সন্ধান মিলেছে। মেহরার পরিবারের সদস্যদের নামে চারটি চার চাকা গাড়ি (এন্ডেভর, এসকোডা স্লাভিয়া, কিয়া সোনেট এবং মারুতি সিয়াজ) বাজেয়াপ্ত করেছে লোকায়ুক্ত।

দুর্নীতি দমন আইনে (Prevention of Corruption Act) জিপি মেহরার বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে পুলিশ। এই ঘটনা সরকারি ইঞ্জিনিয়ারদের জীবনযাত্রা এবং দুর্নীতির এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।