পাহাড়ে ফিরছে স্বস্তি, মেঘের ফাঁকে কাঞ্চনজঙ্ঘা! তবু ভয়াবহ ধসের জেরে এখনও বন্ধ দার্জিলিংয়ের একাধিক রাস্তা

টানা তিন দিনের প্রচণ্ড বৃষ্টি এবং ভয়াবহ ভূমিধসের ছায়া কাটিয়ে অবশেষে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে পাহাড়। শনিবার রাতভর বৃষ্টিতে পাহাড়ি জনজীবন বিপর্যস্ত হলেও, রবিবার থেকে আকাশ পরিষ্কার হওয়ায় দার্জিলিং-এর পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির দিকে। তবে এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৬ থেকে ২৭ জন, এখনও নিখোঁজ বহু মানুষ।
ধসের দাপটে দার্জিলিং-এর বহু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এখনও বন্ধ। পাহাড়ের সঙ্গে সমতলের যোগাযোগ আপাতত চলছে ঘুরপথে। ভাঙা সেতু, ধসে যাওয়া রাস্তায় জোর মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে। প্রকৃতির নির্মম আঘাতের চিহ্ন থাকলেও, মেঘের ফাঁক থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার উঁকি যেন পাহাড়ে নতুন জীবনের আভাস দিচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্যোগের সময় আটকে পড়া প্রায় সব পর্যটককেই নিরাপদে সমতলে নামানো সম্ভব হয়েছে। মঙ্গলবারও বহু পর্যটক শিলিগুড়িতে ফিরেছেন। তবে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চলছে জোরকদমে; প্রশাসনের একাংশের মতে, কিছু দুর্গম এলাকায় এখনও পৌঁছনো সম্ভব হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন: ১৫ দিনের মধ্যে অস্থায়ী সেতু তৈরির নির্দেশ
মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান। তিনি বিশেষত দুধিয়ার ভাঙা সেতু এলাকা খতিয়ে দেখেন এবং দ্রুত মেরামতির নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অস্থায়ী সেতু তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই সেই অস্থায়ী সেতু চালু করা সম্ভব হবে, যা দার্জিলিং ও মিরিকের সঙ্গে যোগাযোগ অনেকটাই সহজ করবে বলে আশা করছে প্রশাসন।
পাহাড়ে এখন বিকল্প রুট
আপাতত পাহাড়ে যাতায়াত মূলত হিল কার্ট রোড (তিনধারিয়া হয়ে সুকনা পর্যন্ত) এবং পাঙ্খাবাড়ি রোডের মাধ্যমে চলছে। পাঙ্খাবাড়ি রোডটি দুর্গম হলেও সেটিই এখন অন্যতম বিকল্প পথ। এই দুটি রাস্তাই বর্তমানে পাহাড় ও সমতলকে যুক্ত রেখেছে।
জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ কড়া: ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
এদিকে, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, শিলিগুড়ির সেবক থেকে সিকিমের রংপো পর্যন্ত ভারী পণ্যবাহী যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। বিশেষত মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত এবং বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে যাত্রীবাহী বাস চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
এই বিপর্যয়ের সুযোগে পর্যটকদের কাছ থেকে দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত ৬৩ কিমি দূরত্বের জন্য ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আটকে পড়া পর্যটকরা।
দার্জিলিং-এর সাধারণ মানুষ এখন এই একটাই আশাতেই বুক বেঁধে আছেন—প্রকৃতি যেন আবার হাসে, আর পাহাড় ফের নিজের স্বাভাবিক ছন্দ যেন ফিরে পায়।